হাওরে ঘুরতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে পর্যটকরা।

কিশোরগঞ্জের হাওরের বিস্তৃত জলরাশি এখন যেন ‘মৃত্যুর দরিয়া’য় পরিণত হয়েছে। এখানকার পানিতে গোসল করতে নেমে স্থানীয় অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। আবার হাওরের নয়নকাড়া সৌন্দর্যের টানে ছুটে এসে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেক পর্যটক। অসাবধানতা ও সাঁতার না জানায় বেশির ভাগ মৃত্যু ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, অনেক পর্যটক হাওর দেখার পাশাপাশি ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাঁতার ও গোসলে নামেন। অনেকে নৌকায় দল বেঁধে ঘুরতে বের হন। এ সময় অনেকে নিরাপত্তার কথা ভুলে যান। অসাবধানতা ও সাঁতার না জানার কারণে সৌন্দর্য দেখতে এসে লাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। যদি পর্যটকেরা সতর্ক থাকেন, তাহলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে।

সম্প্রতি ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা আল আমিনসহ কয়েকজন বলেন, কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীতে বেড়িবাঁধসহ কয়েকটি সেতু ও সড়ক রয়েছে। রয়েছে ডুবোসড়ক। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব স্থানের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে। এসবই তাঁদের টেনে আনছে হাওরে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, বর্ষায় হাওরে নতুন পানি আসার পর থেকে গত তিন মাসে শিশু, পর্যটকসহ অর্ধশতাধিক মানুষ মারা গেছে। গত জুলাইয়ের শুরু থেকে দেড় মাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬ জন। প্রশাসনের কড়াকড়ি সত্ত্বেও হাওরে পর্যটকদের ছুটে আসা থামছে না। অসাবধানতা ও সাঁতার না জানার কারণে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *