হঠাৎ বাড়ছে ভিক্টোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা

আরেফিন বিপুলঃ

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া স্টেটে ৬০ লক্ষ মানুষ থাকে, এরমধ্যে গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন ডাবল ডিজিট নতুন কেস আসছে, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৩ জন, মোট কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সেই জানুয়ারীতে প্রথম করোনা কেস ডিটেকশন দিন থেকে ২৪১ জন মানে যারা বিদেশে যায় নাই, কোনো জানাশোনা করোনা কেসের ধারে কাছে যায় নাই কিন্তু ইনফেক্ট হয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসে এখন পর্যন্ত কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ৩৬২ জন, পুরো অস্ট্রেলিয়ায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ৬৮০এর কিছু বেশী, অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত ৭৫৫৭ জন করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৬৮০ জনের সোর্স জানা যায় নাই ।
ভিক্টোরিয়ার রাজধানী মেলবোর্নে ১০টা সাবার্বে আউটব্রেক হয়ছে, ফ্যামিলি ক্লাস্টার থেকে, লক ডাউন পার্সিয়ালি উঠানোর পর তারা বিভিন্ন আত্মীয়ের, বন্ধুর বাসায় গিয়েছে, আবার কাজে, শপিং সেন্টারে গিয়েছে সেখানেও আউটব্রেক হয়েছে এভাবে ১০টা সাবার্বে স্প্রেড হয়েছে, এগুলা এখন হট স্পট, যদিও ৬০ লক্ষ মানুষের সংখ্যার বিচারে খুব কম, পুরো অস্ট্রেলিয়ার ২ কোটি মানুষ হিসাবে আরো কম, কিন্তু এই ভাইরাস আউটব্রেক কন্টেইন করার জন্য কিকি এরা শুরু করছে দেখা যাকঃ
১) এডি এফ, ( অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স) সোজা কথায় আর্মি নামানো হচ্ছে আজ থেকে, তারা এই সাবার্ব গুলো সহ পুরো মেলবোর্নে কমিউনিটি লার্জ টেস্টিং সাইট গুলোতে করোনা টেস্টে সাহায্য করবে, তাসমানিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস সবাই এই বারতি টেস্টিং তাদের ল্যাবে প্রসেস করতে দিবে, টেস্ট স্যাম্পল সেফলি ক্যারি করবে আর্মি, শুধু তাই নয় ১০টা হট স্পট সাবার্বে ডোর টু ডোর নক করে করোনা টেস্টের স্যাম্পল নেয়া হবে, আর্মি, সরকারী লোক, পুলিশ সবাই এতে অংশ নেবে, এবং পুরো ভিক্টোরিয়াতেও এটি হবে।
২) স্যালিভা থেকে রেপিড করোনা টেস্টিং যেটা মেলবোর্নের রিসার্চ থেকে ইনভেন্টেড হয়েছে সেটার ইমপ্লিমেন্টেশন শুরু হবে আজ থেকে নাক, গলার সোয়াব টেস্টিং এর পাশাপাশি, এটা বয়স্ক, বাচ্চাদের টেস্ট নিতে সাহায্য করবে এবং এটি করতে অত পিপিই এর দরকার নাই।
৩) যারা করোনা টেস্ট পজিটিভ হবে বা পরিবারের কেউ পজিটিভ হলে এবং এর জন্য আইসোলোশেনে যেতে হলে $১৫০০ সরকার ওয়ান অফ পেমেন্ট দিবেন কাজে যেতে না পারার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা মিনিমাইজ করতে ।
৩) এই আউটব্রেক কে ‘পাবলিক হেল্থ বুশ ফায়ার ‘ বলা হচ্ছে এবং স্টেটের পুরো শক্তি আউটব্রেক কন্টেইন করতে এগিয়ে আসছে, পাশাপাশি বাকি সব স্টেটও হেল্প করছে, কারন এক জায়গায় হওয়া মানে পুরো দেশের রিস্ক আর ভবিষ্যৎতে এমন আরো ছোটো ছোটো আউটব্রেকের জোরালো সম্ভাবনা কন্টেইন করার ফোর্স রেডি করা হয়েছে।
৪) আগামি সপ্তাহের স্কুল হলিডের সময় ভিক্টোরিয়ানদের অসুস্হ হলে হলিডে না করতে বলা হয়েছে, প্রত্যাকটা হলিডে স্পটে পাবলিক হেল্থ অফিসাররা থাকছে হ্যান্ড সেনিটাইজার নিয়ে , সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং যেনো মেইন্টেইন হয় সেটা দেখার জন্য। টেম্পারেচার মাপা হবে এসব পপুলার হলিডে সাইটে ।
৫) শপিং সেন্টারে না গিয়ে অনলাইনে কেনাকাট করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, যতটা পারা যায় বাসায় থাকতে বলা হয়েছে, সামান্য গলা ব্যাথা হলেও টেস্ট করাতে বলা হয়েছে, মেলবোর্নের শো গ্রাউন্ডগুলোতেও টেস্ট সেন্টার হবে, সাবার্বের রোডের মাথায় টেস্ট ভ্যান বসবে, মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে নক করেও টেস্ট করবে, যারা পজিটিভ হবে তাদেরকে একা হলে একা, পরিবার সহ হলে পরিবার সহ, বা বন্ধু সহ হলে বন্ধু সহ আইসোলেশনে পাঠানো হবে, বিশাল পাবলিক হেল্থ ফোর্স ( আগেও ছিল) এটা মনিটরিং করবে।

এরমধ্যে নতুন আউটব্রেকে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয় নাই, এদের কে মনিটরিং এ রাখা হয়েছে, আগের ( সেই জানুয়ারীর পর থেকের পাওয়ার কেস গুলো থেকে ৭ জন হাসপাতালে আছে, আর ২ জন আই সিউ তে আছে, যে একজন ৮০ বছর বয়সী রিসেন্ট মারা গেছেন তাঁর কেইসও এই আউটব্রেকের থেকে নয় ।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *