সৎ পিতা ছোট্ট নিষ্পাপ ছেলেটিকে বিক্রি করতে চেয়েছিল!

সৎ পিতার জিঘাংসার শিকার ছয় বছরের শিশু সুজন চার দিন রাউজান থানার হেফাজত থেকে মায়ের বুকের পরশ নিয়ে থানা ছেড়েছে। সে চার দিন থানার পরিবারের আতিথেয়তায় হাসিখুশিতে কাটালেও মাঝেমধ্যে আনমনা হয়ে অপলক নয়নে তার স্বজনদের খুঁজছিল। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেপায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, শিশু সুজন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের কেরামত আলীর কন্যা চম্পা খাতুন ও একই এলাকার সিদ্দীক আলীর তৃতীয় পুত্র।সিদ্দীক আলী চম্পা খাতুনের গর্ভে সুজনকে রেখে মারা গেলে ছেলে ভূমিষ্ট হওয়ার পর অতিকষ্টে চম্পা ছেলেকে লালন-পালন করে আসছিলেন। গত প্রায় সাত মাস আগে চম্পা দ্বিতীয় বিয়ে করেন সিলেট জেলার জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সুজনকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন চর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার একটি ভাড়াবাসায় বসবাস করে আসছিলেন।লম্পট চরিত্রের জজ মিয়ার অভাবের সংসারে এসে চম্পা সবসময় অশান্তির মধ্যে ছিলেন বিশেষ করে তার প্রথম ঘরের সন্তানকে সহ্য করতে পারতো না জজ মিয়া। মাঝেমধ্যে স্বামী জজ মিয়া সুজনকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়ার হুমকিও দিতো।সর্বশেষ জজ মিয়া গত শুক্রবার রাউজান নোয়াপাড়া পথের হাটে অবুঝ শিশু সুজনকে এনে একটি হোটেলে বসিয়ে রেখে চলে যায়।পরে শিশুটিকে অভিভাবকহীন অবস্থায় পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশের হাতে তুলে দেয়।ওই সময় থেকে রাউজান থানা পুলিশ ছেলেটিকে হেফাজতে রাখে। অভিভাবক খুঁজে পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন তারা। সর্বশেষ শিশুটির মা এসে আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) থানা থেকে শিশুটিকে নিয়ে যায়।থানায় এসে আদরের সন্তানকে নিতে এসে চম্পা খাতুন জানান, গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় সুজন চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বরিশাল বাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর থেকে তার সৎ বাবাও উধাও হয়ে যায়। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ছেলের সন্ধানে তিনি এলাকায় মাইকিং করেছেন। ছেলের সন্ধান না পেয়ে দ্বিতীয় স্বামী জজ মিয়ার বাড়ি সিলেটে চলে যান। সেখানকার লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারে তার আদরের সন্তান রাউজান থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। এ সংবাদ পেয়ে তিনি ছুটে এসেছেন ছেলেকে বুকে তুলে নিতে।থানার উপ-পরিদর্শক নুরুন নবী বলেন, সুজন থানায় হাসিখুশিতে ছিল। নারী পুলিশের দুই সদস্য মর্জিনা আকতার ও শামীমা আকতার তাকে মন খারাপ করতে দেয়নি। শামীমা তাকে কিনে দিয়েছেন নতুন জামাকাপড়। সুজনকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মায়ের হাতে কিছু টাকা দিয়েছেন ওসি কেপায়েত উল্লাহ।ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে অশ্রুসিক্ত চম্পা খাতুন জানান, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ থানার সকল পুলিশ সদস্যদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

স্বাধীন কন্ঠ/ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মোঃ রায়হান উদ্দিন।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *