স্মৃতিস্তম্ভ বিতর্ক:মধ্যরাতে আন্দোলনে নতুন মোড়; মানববন্ধন হবে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা

স্বাধীন কন্ঠ প্রতিবেদন: গত রাত দুইটার সময় স্মৃতিস্তম্ভের বিরাধীতাকারীদের অনেকেই লাকেম্বায় এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দেন , এই আন্দোলন চলবে। কারো একক সিদ্ধান্তে এই আন্দোলন বন্ধ হতে পারেনা। এর আগে এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা বাসভূমি টেলিভিশনের কর্নধার , সাংবাদিক আকিদুল ইসলাম স্মৃতিস্তম্ভের সাথে জড়িত ৫ জনের সাথে মিটিং হয়েছে বলে জানান। তিনি জানান , সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৬ তারিখের মানববন্ধন ও চা চক্র হবে না। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন , সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক আবদুল মতিন ও সাংবাদিক নেতা নাইম আবদুল্লাহ।


সাংবাদিক আকিদুল ইসলামের এই ঘোষনার পর পরই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। মধ্যরাতে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে লামেম্বায় জড়ো হন আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত গুরূত্বপূর্ন অনেকে। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা আলী শিকদার বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাদের জানিয়ে করা হয়নি। তিনি বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুষ্ঠান পন্ড করতে চাচ্ছেন, আপনারা কারো কথায় কান দিবেন না। কম্যুনিটির স্বার্থে এই মানববন্ধন হবে। সেখানেই আমরা পরের কাজ কি হবে জানাবো। তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাইদের বলবো, যারা ব্যক্তিগতভাবে এই আন্দোলন নসাৎ করার চেষ্টা করছেন, তারা দয়া করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। ‘
রানা শরীফ যিনি এই আন্দোলনে প্রথম থেকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কারো একক সিদ্ধান্তে এই আন্দোলন বন্ধ হবে না। আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। সোলার ওয়াল্ডের মালিক , ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, এই আন্দোলন অনেক দূর এগিয়েছে। এখানে আমরা মেয়রের সাথে কথা বলেছি। তাকেও এখানে আসার আমন্ত্রন জানিয়েছি। মানববন্ধন হবেই হবে বলে জানান তিনি।’
আন্দোলনকারী সোহেল বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনকারীদের ১০০ জনের কমিটি রয়েছে, তারা কেউ এই মানববন্ধন বন্ধের কথা বলেননি। এই এই কাউন্সিলের প্রশ্ন। সেটা এই কাউন্সিলের লোকজনই বুঝবে। ‘
আন্দোলনকারী মামুন , আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন ,বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আকিদ ভাইয়ের পোস্ট দেখে আমি আশাহত হয়েছি। তিনি কার সাথে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন জানিনা। আন্দোলনকারী মিন্টু সাংবাদিক আকিদুল ইসলামের পোস্ট বিশ্লেষন করে করে তার প্রতিটি বাক্যের বিরোধীতা করেন।


কম্যুনিটির সিনিয়র সংগঠক, যিনি এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ফারুক হান্নান। তিনি এই প্রতিবেদককে ফোনে বলেন, ‘ এই পোস্ট কে কারা দিয়েছে সেসবের সাথে মুল আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নাই। আগামীকালের মানববন্ধন হবে। কাউন্সিলের লিখিত সিদ্ধান্তের আগে এই আন্দোলন থামবে না। তিনি বলেন, আমি নিজে সাংবাদিক আকিদুল ইসলামকে কল দিয়েছি, তিনি রিসিভ করেননি। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এইসব কর্মকান্ডে আমাদের আন্দোলন বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। গতকাল আমাদের মেয়রের সাথে আলোচনা হয়েছে। সেই অগ্রগতি দেখে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে এই আন্দোলনকে স্লো ডাউন করতে। সেটা হবে না। আজকে রাতে মানববন্ধনের প্রস্তুতি সভা হবে বলে জানান তিনি। ‘ তিনি বলেন, চুক্তিনামা যেটি তারা প্রকাশ করেছে, তাতে মনে হয় এটা বুঝি দুই ব্যক্তির পার্সোনার দ্বন্দ ছিলো। কিন্তু এইটা একটা গণ আন্দোলন। কারো ব্যক্তিগত রেষারেষির জায়গা না , এইটা মনে রাখতে হবে। ‘


বিষয়টি নিয়ে ফোনে সাংবাদিক আকিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি ফেসবুকে দেয়া তার পোস্টকে সর্বশেষ অবস্থান বলে জানান। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, কম্যুনিটির সিনিয়র আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের সাথে কথা বলে তিনি বৈঠকে বসেন। নকশা পরিবর্তনের জন্য কমিটি করা হবে বলেন জানান তিনি। সেই অনুযায়ী নতুন শহীদ মিনার হবে বলে লিখেছেন তিনি। তিনি জানান মিটিং শেষে নেতাদের পরামর্শে আন্দোলন স্থগিত করা হয় । কেউ এর পরেও আন্দোলন করলে সেটা তাদের আলাদা সিদ্ধান্ত। তিনি এখানকার বিএনপি , আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন প্রেস ও মিডিয়ার নাম দিয়ে লিখেছেন এই আন্দোলনে সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নাই।
তার এই নতুন প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, এইগুলো উদ্দেশ্যপ্রনোদিত সিদ্ধান্ত। এই প্রস্তাবগুলো যদি কেউ আমাদের দেয় আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখবো। ফারুক হান্নান বলেন, কাউন্সিলের মেয়র এমনিতেই এর থেকে বেশি অগ্রগতির কথা আমাদের জানিয়েছেন। আমরা কাউন্সিল থেকে সবকিছু লিখিত নিয়েই থামবো।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *