সিডনিতে মুক্তমঞ্চ আলোচনাঃ ‘বঙ্গবন্ধু জেলে গেলে ছাত্রলীগের দেখভাল করতেন বেগম মুজিব’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি যখন জেলে যেতেন, তখন বেগম মুজিব ছাত্রলীগের দেখভাল করতেন।’

রবিবার সিডনি সময় রাত সাড়ে ৮টা ও বাংলাদেশে সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ‘গৌরব ও অহংকারের ছাত্রলীগ-অতীত, বর্তমানের সোনালী আড্ডায়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভার আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়ার বাংলা পত্রিকা মাসিক মুক্তমঞ্চ। সঞ্চালনা করেন মাসিক মুক্তমঞ্চের প্রধান সম্পাদক নোমান শামীম। আলোচনা সভায় উঠে আসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রামী সোনালী সময়ের অনেক গল্প, অনেক না জানা তথ্য।

এতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, বরিশাল সবসময়ই আন্দোলন-সংগ্রামের একটি সূতিকাগার ছিল। আমি স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগ করতাম, স্কুল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তখন আমাদের নেতাদের মধ্যে একটা আন্তরিকতা ছিল। তারা নিয়মিত কর্মীদের খোঁজ খবর নিত। যেসব কর্মী নিয়মিত মিটিং-মিছিলে অংশ নিত তারা যদি হঠাৎ অনুপস্থিত থাকতো তাহলে নেতারা খোঁজখবর নিতো। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পরেও নেতাদের মধ্যে আমরা আন্তরিকতা পেয়েছি। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গেছে, তারাই ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে গৌরবের সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই। এটির পেছনেও ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে। বর্তমানে করোনা মহামারি মোকাবিলায়ও ছাত্রলীগ প্রশংসামূলক ভূমিকা রেখেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি যখন জেলে যেতেন তখন বেগম মুজিব ছাত্রলীগের দেখভাল করতেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাজাদা মহীউদ্দীন বলেন, ৮৬র নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন সাহেব তখনও নাটের গুরু ছিলেন, এখনো নাটের গুরু, সিএইএর এজেন্ট। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা কারো নির্বাচন বয়কটের কোনো ইতিহাস নেই। এরশাদই নির্বাচনে মিডিয়া ক্যু করে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দিয়েছিলো। তখন ঢাকা মেডিক্যালের হোস্টেলগুলো ছিলো আমাদের শেষ আশ্রয়। সেখানে ছাত্রসমাজ ছিলো ছাত্রলীগের দখলে। সেখান থেকে আমরা ১/২ মিনিটের জন্য ফোন দিয়ে বাসায় যোগাযোগ করতাম। সেসময় শফিক ভাই ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। তাদের নেতৃত্বেই আমরা রাজনীতি, আন্দোলন, সংগ্রাম করেছি। সেলিম, দেলোয়ার, রওশন বসুনিয়া যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যতজন শহীদ হয়েছেন, সবাই ছাত্রলীগের। কেউ বলতে পারবে না ছাত্রদলের কেউ নিহত বা হতাহত হয়েছে। সব নিহত নেতাকর্মী ছাত্রলীগের। কারণ, ছাত্রলীগ যা বলে, তা করে, রাজপথে জীবন দিয়ে প্রমাণ করে তারা ঐতিহ্যের ধারক,তারা বেইমান না। তারা রাজপথ ছেড়ে পালায় না।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের উপর ছাত্রদল ও ছাত্রসমাজ মিলে অত্যাচার করতো। প্রতিষ্ঠার পর থেকে করোনাকালীন সঙ্কট পর্যন্ত ছাত্রলীগ তার মানবসেবার ঐতিহ্য বজায় রেখেছে।

ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল আলম বলেন, আমি সেই ৭৯ সাল থেকেই প্রত্যক্ষভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। এরপর ৮১ সালের দিকে ঢাকায় আসি। আর নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রলীগই ছিল মূল ভূমিকায়। সেসময় সরসরি আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িত থাকায় অনেক ঘটনারই স্বাক্ষী আমি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সাবেক সদস্য প্রফেসর ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেন,৭৫ এর পর বাংলাদেশে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছিল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আপনি এরশাদকে স্বৈরশাসক বলেন গালি দেন আর জিয়াউর রহমানকে পূজো করেন-এটা তো হবেনা। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরপরই প্রথম আঘাতটা করা হয় ছাত্রলীগের উপর। ছাত্রলীগকে বিভক্ত করে দেওয়া হয়। কারণ ছাত্রলীগকে দুর্বল করতে পারলেই শেখ হাসিনাকে দুর্বল করা যাবে। আর শেখ হাসিনাকে দুর্বল করতে পারলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেন- সব দুর্বল হয়ে যেত।

মতিঝিল থানা ছাত্রলীগ ও সাবেক মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জার্মানির কনস্যুলেট জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া বলেন, পৃথিবীতে খুব কম ছাত্রই সংগঠনই রয়েছে এমন, যে ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত নানান ভূমিকা পালন করেছে। ৭৫ এর পর নেত্রী দেশের আসার পর তার হাতকে শক্তিশালী করতে আগে তিনি ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার পেতে যা কিছু করা প্রয়োজন এর জন্য তিনি এই ছাত্র সংগঠনটি গঠন করেছেন।

তিনি বলেন- নকশাল, জামাত, জাসদ, বিএনপি প্রায়ই আমাদের মতিঝিলের অফিসে হামলা করতো। রাতের পর রাত ছিলাম ঘর ছাড়া, ক্লাসে যেতে পারিনি। আমরা শখে দেশ ত্যাগ করিনি। আমাদের করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা জীবন বাঁচানোর জন্য বিদেশে। সে কারণে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে।

হাসনাত মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ বারবার জয়ী হয়, কারণ এর নেতৃতে আছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সাথে আছে শক্তিশালী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই গৌরবময়য় সংগঠনের কারণে আজকের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের উপর ভরসা করেন বলেই তিনি ছাত্রলীগকে নিয়ে আজকে শক্তিশালীভাবে তার মর্যাদা উপস্থাপন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডামেকসু’র সাবেক ভিপি ডা. ফরহাদ আলী খান বলেন, ৯০ এর গণআন্দোলনে ছাত্রলীগই ছিল মূল ভূমিকায়। ওই সময় অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ জিহাদ হত্যার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই তার লাশ লুকিয়ে রেখেছিল, যাতে এরশাদের বাহিনী বা পুলিশ নিয়ে যেতে না পারে।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *