সিডনিতে করোনা আতঙ্কে বাংলাদেশী প্রবাসীরা

করোনা ভাইরাসের খুব শক্তিশালী ইফেক্ট পড়েছে মধ্যে। শুধু বাংলাদেশীই নয় , নেপাল , ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানী কম্যুনিটিও ভয়ে ও শঙ্কায় অদ্ভুত সব আচরন করছে। হঠাত করেই দেখা গেলো গতকাল লাকেম্বা সহ অন্যান্য বুচার শপগুলোতে মহা ভীড়। ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই সব গুরু মাংস উধাও। সেই সাথে চিকেন কেনারও ধুম। সবাই একযোগে মাংস স্টক করে রাখতে চাইছে। ধারনা করা হচ্ছে যে এই উইকেন্ডে কেনাকাটার এই ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে পে ডে ( বেতন দেয়ার তারিখ) আসলে মানুষের কেনাকাটা করে ঘরে মজুদ করে রাখার হার আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকার বুধবার সকালে পরিস্কার ঘোষনা দিয়েছে যে অস্ট্রেলিয়ায় আপাদত কান্ট্রি লকডাউন হচ্ছে না। এমনকি স্কুলও তারা বন্ধ করবে না। তবে সতর্কতামূলক সব ব্যবস্থা সরকারের থাকবে। বাইরে জমায়েতের বিষয়ে তাদের আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইনডোরের ক্ষেত্রে বুধবার সকালে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। নতুন নিয়মে ইনডোরে একশ জনের বেশি একত্রিত হতে পারবে না। পাবলিক গ্যাদারিং নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

কম্যুনিটিতেখবর নিয়ে জানা যায় , হরেক রকমের গুজবের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে সিডনি প্রবাসীদের । এই চালশেষ হয়ে গেছে, বাচ্চাদের ন্যাপি শেষ হয়ে গেছে, ডাল পাওয়া যাচ্ছে না  , সর্বশেষমাংস নিয়ে টানাটানি। আর টিস্যুর বিষয়টিতোঅনেক দিন ধরেই চলছে। এরই মধ্যে আতঙ্কিত প্রবাসীরা চেষ্টা করছেন নিজেদের ঘরে যথাসম্ভব বেশি জিনিস মজুদ করতে । যত বেশিমজুদ করতে পারবেন ,তত বেশি লাভ।এরই মধ্যে বাড়ছে করোনা ছড়ানোর শঙ্কাও। কারন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। শুধু নিউ সাউথ ওয়েলসেই এই সংখ্যা ২২০জন এর বেশি। ডাক্তাররাআশঙ্কা করছেন  এইসংখ্যা আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত১০০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। খুব খারাপ কিছু হলে এমনকি ৬০ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ানআক্রান্ত হতে পারে। সাথে সাথে দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এগুলো সবই আশঙ্কার কথা। তবে আশার কথা হচ্ছে ,সরকার বসে নেই। তারা তাদের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুই দফা বাজেট ঘোষনা করেছে । সরকারী সুবিধাভোগীসবাই ৭৫০ ডলার করে ক্যাশ মানি পাবেন। এছাড়া কিছু কিছু সেক্টরে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কুইন্সল্যান্ড সরকার তাদের নাগরিকদের আলাদা কিছু সুবিধা দিচ্ছে । এছাড়া এনএসডাব্লিউথেকে ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া সহ বেশ কিছুসুবিধা রেখে দুই বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে। করোনা আতঙ্কে সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তর তর করেনেমে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি। যারা বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠান তাদের অবস্থা বেশি খারাপ। এখন টাকার বিপরীতে ডলারের মান অনেকখানি কমে গেছে।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *