সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মাদ জামানের পদত্যাগের আসল কারন

সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মাদ জামানের পদত্যাগের আসল কারন মোহাম্মাদ জামান টিটুর কাউন্সিলর পদে না থাকা নিয়ে বেশ কিছু পোস্ট ঘোরাঘুরি করছে ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল থেকেই অনেক ফোন পেয়েছে স্বাধীন কন্ঠ । আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি আসলে কি ঘটেছে। প্রথমত , কম্যুনিটির অনেকেই আগ্রহ করে জানতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় মোহাম্মাদ জামান টিটু , যিনি লাকেম্বা এলাকায় বিজনেস করে থাকেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশী যিনি পর পর দুইবার বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি গত কাউন্সিল নির্বাচনে লিবারেল পার্টির নমিনেশনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। অতি সম্প্রতি তার কাউন্সিলর পদ শূন্য হয়। কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে তার ছবি না দেখে অনেকে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিত কিছু আইডি থেকে জানানো হয় যে তাকে অপসারন করা হয়েছে। স্বাধীন কন্ঠ বিষয়টি নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করলে মোহাম্মাদ জামান জানান তার কাউন্সিলর পদে না থাকার বিষয়টি সত্য। তবে দুর্নীতির দায়ে না, তিনি কাউন্সিল থেকে নিজেই পদত্যাগ করেছেন ।

হঠাৎ করে পদত্যাগের কারন কি সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অস্বচ্ছলতার কারনে নিজেকে ব্যাংকক্রাফট ঘোষনা করেছেন। যা লোকাল গভমেন্ট আইনের ই ধারায় তার কাউন্সিলর পদে থাকার জন্য অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো। তাই ব্যাংকক্রাফসির পাশাপশি তিনি নিজেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পাবলিক সার্ভিসের পদ ছেড়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে বলে মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, কোনো দুর্নীতি আমি করিনি। আর সেই কারনে পদত্যাগও করিনি। এদেশে এসব গসিপ যারা করছেন তাদের শিক্ষার ও জানার সমস্যা রয়েছে। এদেশে তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। যে কেউ চাইলে কাউন্সিল থেকেই বিষয়টি জানতে পারবেন যে আমি কেনো পদত্যাগ করেছি। তিনি বলেন, আমি দুর্নীতি করে থাকলে তো কোটি কোটি টাকার মালিক থাকতাম। আজকে ব্যাংকক্রাফট থাকতাম না। আমার নামে দুর্নীতির অভিযোগ হাস্যকর। মোহাম্মাদ জামান বলেন, মানুষের আর্থিক সুবিধা বা অসুবিধা থাকতেই পারে। আমার তেমনই এক অসুবিধার কারনে আপাদত পাবলিক সার্ভিস থেকে সরে আসতে হলো। তবে যতদিন কাজ করেছি নিষ্ঠার সাথে সবার সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছি। আবার ভবিষ্যতেও আমাকে এখানকার মানুষ তাদের পাশে পাবেন। লিবারেল পার্টিতে তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মাদ জামান বলেন, আমি লিবারেল পার্টির যেসব দায়িত্বে আগে থেকে ছিলাম তার সব দায়িত্বেই রয়েছি। দলের পদের সাথে ব্যাংকক্রাফসির কোনো সম্পর্ক নেই। মোহাম্মাদ জামান বলেন, কম্যুনিটির জন্য যা কিছু তার দ্বারা সম্ভব ছিল সবই করেছেন তিনি। ভবিষ্যতেও করতে থাকবেন।

তিনি বলেন, যারা মিথ্যা সমালোচনা করে, তাদের উচিত একটু কষ্ট করে যাচাই বাছাই করে কথা বলা। যাচাই না করে মিথ্যা দোষারোপ করা একটি অন্যায় কাজ। তার সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সব সময়ই আমার প্রতি আস্থা রাখতে পারেন। আমি দুর্নীতি তো করিইনি , বরং নিজের সবকিছু দিয়ে আপনাদের সহযোগীতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাবো। ব্যাংকক্রাপসির কারনে কাউন্সিলর পদ চলে যায় কিনা সেই বিষয়ে এই রিপোর্টার নিজে খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি দেখেছেন , লোকাল গভর্নমেন্ট আইনের ই ধারায় এই কথা লেখা আছে। বিষয়টি নিয়ে যে কেউ চাইলে কাউন্সিলে যোগাযোগ করতে পারেন।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *