সাকিবের বিষয়ে ময়না তদন্ত হওয়া উচিত।


বিশ্বসেরা অলরাউন্টার বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানকে শাস্তি দেয়া ঘটনা পরিকল্পিত বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ বিষয়টিতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বিসিবির মধ্যে সম্ভবত সমন্বয় ছিল।’ আইসিসির রায়ের ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে সাবের হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বিসিবি দ্রুত মিডিয়ায় একটি প্রেসনোট দিয়ে দিলো এবং এক ধরনের স্বাগত জানালো। আইসিসির যে রায়, এখানে তারা তিনটি ঘটনার কথা বলছে। আমার মনে হয়, এই রায়ের ময়নাতদন্ত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এরকম আরেকটি ঘটনা না ঘটে।


গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘সংকটে ক্রিকেট’ শীর্ষক বৈঠকিতে এমন কথা বলেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি। রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভও দেখা গেছে।


এক ধরনের চাপের মুখে সাকিব আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন দাবি করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আইসিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাকিব আল হাসান এ বিষয়ে আর কোনো শুনানির প্রয়োজন মনে করে না এবং সময় বাঁচাতে চেয়েছেন। শুনানি আর আত্মপক্ষ সমর্থন এটা প্রাকৃতিক বিচার ব্যবস্থা।’


সাবের হোসেন জোর দিয়ে বলেন, সাকিবকে কিন্তু চাপ দিয়ে সারেন্ডার করালো। যেন তাকে বলা হচ্ছে যে– ‘আমি তোমাকে হালকা শাস্তি দেবো।’ ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব তো খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়ানো। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইসিসির সঙ্গে এই এগ্রিমেন্ট একই দিনে না করে যদি ভারত সফরের পরে করতো তাতে সমস্যা কী ছিল? এই যে একদিনে এতগুলো ঘটনা, এখানে কি কোনো সমন্বয় ছিল না আইসিসি আর বিসিবির মধ্যে? এটা আমার কাছে বিশ্বাস হয় না।বিসিবির সাবেক এই সভাপতি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একই তারিখে কয়েকটি ঘটনা ঘটলো। আইসিসির রিপোর্টে আছে বিস্তারিত। ২৯ তারিখ সাকিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে জেরা করা হলো। ওই তারিখেই সাকিব স্বীকার করলো, লেটার অব এগ্রিমেন্ট সই করলো। একই দিনে আইসিসি এই সংবাদ তাদের ওয়েবসাইটে দিলো। ২৯ তারিখেই বিসিবির মিটিং চললো। একই দিনে এই ঘোষণার পর ইন্ডিয়ার টিম ঘোষণা করা হলো। সব একই দিনে!
সাবের হোসেন এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, তার মানে এই কাজটি নিশ্চয়ই আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে ক্রিকেট বোর্ড করেছে। না হলে ক্রিকেট বোর্ডের সভা কেন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে? শুরু হলেও কেন আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত চললো। এত ঘটনা একদিনে কীভাবে হয়। বিসিবির বোর্ড মিটিংয়ের শিডিউল ছিল ৩টায়। তারপর আবার টিম ঘোষণা হলো। তার মানে তারা জানতো ২৯ তারিখে আইসিসির সিদ্ধান্ত আসবে।’বিসিবির সাবেক সভাপতি আইসিসির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আইসিসির নতুন কোড অব কন্ডাক্ট কিন্তু ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে। কোড অব কন্ডাক্ট চালু হওয়ার পর থেকে ধরলে দুটি অপরাধে সাকিব অভিযুক্ত না। সাকিবের যদি দুটি অপরাধ বাদ হতো তাহলে কিন্তু একটা থাকে। তার জন্য সাজা হতো ছয় মাস। কিন্তু ছয় মাস আর এক বছরের সঙ্গে আরও এক বছরের ব্যবধান অনেক। এই জায়গায় বিসিবির উচিত ছিল তাদের কাছ থেকে জানা। সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় শুধু সাবের হোসেন চৌধুরী নয় পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে একটি ভারাক্রান্ত মোহ রূপ নেয় এবং সবাই সাকিবকে ক্রিকেট খেলায় ফিরে আসতে আহ্বান জানান। সবাই মনে করেন আইসিসি কোন অভিযোগ থাকলে সেটি আবার পুনরায় অভিযোগটি প্রমাণ করার বা আপীল করার সুযোগ থাকা দরকার। সবাই বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ হতে যদি সাকিবের বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তাহলে সাকিব নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ফিরে এসে আবার ক্রিকেট মাঠে জ্বলন্ত রূপ নিবে।সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অন্যদের মধ্যে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, ক্রীড়া সংগঠক জালাল আহমেদ চৌধুরী, বিসিবির সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, দৈনিক কালের কণ্ঠের উপ-সম্পাদক মোস্তফা মামুন এবং বাংলা ট্রিবিউন সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।

স্বাধীন কন্ঠ।

Categories:খেলা
Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *