রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশের শাসন প্রক্রিয়া এবং তরুণদের রাজনীতি

লেখকের ছবি

তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের একটি যুগান্তকারী ঘটনা হলো ১৯০৬ সালে ‘মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠা। ভারতীয় কংগ্রেসের একমাত্র বিরোধী/প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ‘মুসলিম লীগ’। মূলত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রধান কারণ হলো, উপমহাদেশের সংখ্যালঘু এবং অবিভক্ত পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার আদায় করা। যে অধিকারগুলো ভারতীয় কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে আদায় করা যাচ্ছিলোনা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ’কে কেন্দ্র করে বাংলা ভূখন্ডে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। তৎকালীন ভারতীয় কংগ্রেস পূর্ব বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সুযোগ -সুবিধা নিয়ে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মাথা ঘামায়নি। তদ্রুপ পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে থেকে ‘মুসলিম লীগ’ পূর্ব বাংলার(বর্তমান বাংলাদেশ) জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত রাখে। সুদীর্ঘ ২৪ বছর জুলুম ও শোষণ-বঞ্চনার মধ্যে অতিক্রম করেছে পূর্ব বাংলা(বর্তমান বাংলাদেশ)। ২৪ বছরের পথ পরিক্রমায় দানা বেঁধেছে স্বাধীন চেতনার,জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে করেছে বহু গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম।

এই সবের ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার প্রগতিশীল এবং মুক্ত চেতনার নেতৃবৃন্দ গণ ঐক্যবদ্ধ হোন শক্তিশালি রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য। ধারাবাহিকভাবে সৃষ্টি হয় পূর্ব পাকিস্তান(বর্তমান বাংলাদেশ) গণতান্ত্রিক যুবলীগ, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকার রাখে। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী এই সংগঠনের জন্ম। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে এটার উপর ভিত্তি করে রাজনীতির অগ্রসরমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভুমিকা ছিলো অনন্য।

ধারাবাহিকভাবে ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন পূর্ব বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হলো ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল। অবিভক্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশাল মাইলফলক ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠা। নবগঠিত কমিটিতে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ছিলেন সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে দলটিকে অসাম্প্রদায়িক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্যে এবং সকল সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের অংশীদারিত্বের সুযোগের জন্যে দল থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে ১৯৫৫ সালের ২৩ জুন থেকে ‘আওয়ামী লীগ’ হিসেবে 

আত্মপ্রকাশ করে। পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

‘আওয়ামী লীগ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একটি স্বাধীন,সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। পূর্ব বাংলার সকল জনগণকে একত্রিত করেছেন। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও দেশ স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। স্বাধীনতা উত্তরের পরেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে যেভাবে পুনর্গঠন করেছেন সেই ইতিহাস কারো অজানা নয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য একটি সংবিধান রচনায় হাত দেন এবং নানা চড়ায় উতরায় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। তাছাড়া একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন সাধন করে বঙ্গবন্ধু।

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিরোধী দলীয় ভুমিকায় ছিলো সমাজতান্ত্রিক আদর্শ নিয়ে গড়ে  ওঠা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। 

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিলো। বিশেষ করে তখন যেটা বেশী প্রয়োজন ছিলো স্বাধীনতার বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি পাওয়া এবং পররাষ্ট্রনীতি জোরদার করে তোলা। এই দিকটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সফলতার দুয়ারে গিয়ে হাতছানি দিচ্ছিলো বটেই, কিন্তু বেশীদিন টিকে থাকেনি ক্রমাগত উন্নয়ন,সবকিছু যেনো একটি বুলেটের মধ্যদিয়ে মিশে গেলো অসীম আকাশের দিগ্ দিগন্তে!ঘটে গেলো পৃথিবীর সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ‘১৫ আগস্ট’। ১৯৭৫ সালের ১৫আগস্টের কলঙ্কজনক অধ্যায় বাংলাদেশকে আবারো পিছিয়ে দিয়েছে। যেকোনো হত্যাকাণ্ডই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫আগস্ট হত্যাকাণ্ড অনেক বেশী মর্মান্তিক।১৫ আগস্টের পর একের পর এক সামরিক অভ্যূত্থান হয় স্বাধীন বাংলাদেশে। একেক অভ্যূত্থানে দেশের রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর বিভিন্ন নাটকিয়তায় মেজর জেনারেল জিয়া হয়ে ওঠেন স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি। দেশের শাসনকার্যে হাত দেন জেনারেল জিয়া। কিছু উন্নয়নমুখী কাজে অগ্রসরমান ছিলেন তিনি। জেনারেল জিয়ার পাঁচ বছরের শাসনামলে প্রায় ২২টি অভ্যূত্থান সংগঠিত হয়েছিলো। ২১টি অভ্যূত্থান প্রতিহত করতে পারলেও,২২তম অভ্যূত্থানে মৃত্যু হয়েছে জেনারেল জিয়ার। এর পর আবারো অভ্যুত্থান হয় এবং আবারো সামরিক শাসন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এইচ এম এরশাদও হয়ে যান রাষ্ট্রপতি। তার শাসনামল ছিলো ১৯৮১-১৯৯০ পর্যন্ত। ‘৯০’ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ছিলো আরো একটি অভ্যূত্থান। অনেক গুলো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন সংগ্রামের চাপে পড়ে এরশাদ সরকারের পতন হয় এবং ১৯৯১ সালে হয় ৫ম  জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকার গঠন করেন বিএনপি জোট সমর্থিত চার দলীয় জোট সরকার। সরকার প্রধান হোন বেগম খালেদা জিয়া। বিরোধী দলের ভুমিকায় ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই সরকারের শাসনামলে তেমন কোনো অরাজকতা কিংবা বিরোধী দলের হরতাল অবরোধ দেখা যায়নি।১৯৯৬ সালে, বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ ও ৭ম দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়।মোট ভোট গৃহীত হয়েছিল মাত্র ২১%। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে জয় লাভ করে এবং ৩০০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনই লাভ করে। সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে এবং পরবর্তীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন একই বছরের ১২ জুনে অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৯৬ সালের ১২জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়। আওয়ামী লীগ এককভাবে সরকার গঠন করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এই সরকার পাঁচ বছর শাসন প্রক্রিয়া চালায়। সরকার প্রধান ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ এর পর দীর্ঘ ২০ বছরের মাথায় এসে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তখন বিরোধীদল ভুমিকায় ছিলো বিএনপি। ঠিক একই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে আবারো সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়। সরকার গঠন করে চারদলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি জোট সরকার। সরকার প্রধান ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিরোধী দলীয় ভুমিকায় ছিলো বর্তমান ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলের চাপ এবং সামরিক বাহিনীর  কূটকৌশলে দেশের রাজনীতিতে ঘঠে গেলো২০০৭ সালের ‘ওয়ান-এলিভেন’ খ্যাত এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ২০০৭ সালের ওয়ান-এলিভেন বা ১/১১ বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় পরিবর্তন করে দেয়। ১৬ বছর পর এসে দেশ আবারো সামরিক শাসন প্রত্যক্ষ করলো। এটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা তিন উদ্দীনের শাসন হিসেবে খ্যাতি ছিলো। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উদ্দীন আহমেদ এক-এগারোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন আহমেদকে(শাসনকাল ২০০২-২০০৯) দিয়ে জরুরী অবস্থা জারি করে মইন ইউ আহমেদ সামরিক শাসনের পথ সুগম করে। ড.ফখরুদ্দিন আহমেদ সরকার প্রধান হলেও, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মইন ইউ আহমেদ। কিন্তু তারা বেশীদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি।দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে হাত দিতে গিয়ে বিশেষকরে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে’ রাজনৈতিক মাঠ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে গিয়ে দুই দলের জন্য সুবিধা করে দিয়েছেন মইন ইউ আহমেদ,ফখরুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। 
পরবর্তীতে সামরিক সরকারের/তত্ত্ববধায়ক সরকারের 

অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হতে হয়। এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন দিয়ে মাত্র  দুই বছরের মধ্যে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তন করেন। ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত জিল্লুর রহমান। ২০১৩-বর্তমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ।

২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে ২০০৯ সালের জানুয়ারীর শুরুতে মহাজোট সরকার গঠন করেন। ধারাবাহিকভাবে ২০১৪ সালের দশম এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেন। টানা তিন বার ক্ষমতায় আছেন এই দল। আর তিনবারই সরকার প্রধান ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই ১৯৮১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা।
আবারো অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া ছিলেন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা টানা তিনবার এবং সর্বমোট চারবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেই রেকর্ডও ভেঙ্গে দিয়েছেন ইতোমধ্যে।

তাহলে বুঝা যাচ্ছে,স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় অনেক ইতিহাস রয়েছে। আর এই দেশের রাজনৈতিক গতিধারা এখনো বহমান। একটি দল নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করা যাবেনা। এই দেশ বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশ। ক্ষেত্র বিশেষে এবং ঘটনার নিরিখে বিভিন্ন সময় বহুদল স্বাধীন বাংলাদেশে শাসন প্রক্রিয়া ক্রমবর্ধমান রেখেছে। একেক রাজনৈতিক দল বিভিন্ন উপায়ে দেশের শাসনকাজে অবদান রেখেছেন সেটা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। কিন্তু আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে এটা নিয়ে কোন কোন রাজনৈতিক দল ভাবছেন? আগামীতেও কি এইভাবে রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত থাকবে? সামরিক অভ্যূত্থান কি আরো প্রত্যক্ষ করতে হবে? যদি তাই হয় তাহলে আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজান্মন্তরে ভালো কিছু ভোগ করতে পারবোনা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো উপনিবেশীক ধারায় বহমান। একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক শৃঙ্খল যোজন হওয়া উচিত সার্বভৌম। আমরা রাজনীতির জন্য ধর্মকে ব্যবহার করি। অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক বলে ভুলি উড়ায়। যে রাজনৈতিক দল নিজ স্বার্থ আদায়ের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে তারা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছোতে পারেনা।
আমাদের দেশেও এমন কতক রাজনৈতিক দল এই ভুলের মাশুল দিচ্ছে এবং আজন্ম দিবে। রাজনীতি আর ধর্ম দুইটা আলাদা বিষয়। দুইটার উদ্দেশ্য ভিন্ন,তাদের নীতি আদর্শও ভিন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। 
কিন্তু ঘাত-প্রতিঘাতের পরেও এই দেশের ক্ষেত্রে তার উল্টো টা হয়।

এই চিরাচরিত রাজনীতির সাথে যখন তরুণ প্রজন্ম(আমরা) মিশে যাবে কিংবা এই ধারার রাজনীতি করবে,তখন রাজনীতির ভয়ানক অধ্যায়ের সম্মুখীন হতে হবে পুরো দেশকে।একটি ভয়াল ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে হয় বারংবার। কেন এমন রাজনীতি? এর উত্তরণের পথ কি নেই? অবশ্যই আছে। শুধু নতুন ধারার রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম আবিষ্কার এবং চর্চা করতে হবে। জাতির সূর্য সন্তানেরা যে উদ্দেশ্যে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দিয়েছে,সেই উদ্দেশ্যকে অনুসরণ করতে হবে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মজলুম নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, জাতীয় চার নেতা সহ প্রমুখ গণ যে রাজনীতির ফর্মুলা দিয়েছেন সেই পথে হাঁটলে রাজনীতির গতিধারা আরো উন্নত এবং সমৃদ্ধ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের মতো একজন নেতা কি এখন সৃষ্টি হবে? হবে না। তাই সেই কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ গণের পথ অনুসরণ করতে পারি ঠিকই,কিন্তু তাদের মতো নয়। তাঁরা ভঙ্গুর জাতিকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন।কিন্তু আমাদেরকে প্রজন্মের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ তৈরী করতে হবে। তাঁরাও হয়তো সুযোগ পেলে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারতেন।দূর্ভাগ্যক্রমে সেই সময় সুযোগটা তাঁরা পাননি।

তরুণরাই(আমরা) পারবে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম হচ্ছে এই দেশের অন্যতম একটি শক্তি। তারা যদি শক্তিটা যথাযোগ্য কাজে না লাগায় তাহলে পরবর্তী কয়েক প্রজন্ম রোষানলে পরার সম্ভাবনা অধিক।
রাজনীতি এমন একটি বিষয়,যেটা দিয়ে একটি দেশের চরিত্র,রূপ পাল্টানো যায়। আর এই দেশের স্বাধীনতাও রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় সম্ভব হয়েছে। কোনো ধর্ম কিংবা ঐশি শক্তি বা আকস্মিক কোনো কিছুর মাধ্যমে নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বে আমরা ১৯৫২ সাল থেকে ৭১ পর্যন্ত অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই আমাদের এই স্বাধীন দেশের রাজনীতির তাৎপর্য অনেক। আর এই তাৎপর্যকে সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতের দৌড়গোড়ায় নিয়ে যেতে হলে চলমান রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দলের সংস্কার অবশ্যম্ভাবি। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অঙ্গসংগঠন গুলো রয়েছে সেগুলোরও সংস্কার প্রয়োজন। জাতীয় নেতা তৈরী করতে হলে ছাত্র রাজনীতি তাদের পুরোনো অতীতের আদর্শ,গর্ব,ঐতিহ্যে ফিরে গিয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবেই ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র সংগঠন করে জাতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছেনা। সবাই প্রতিহিংসার,দুর্নীতির রাজনীতি করছে। কেউ এখন দেশ নিয়ে ভাবছেনা। একজন ভাবলেও ওই একজনকে উপর থেকে ধুমরে মুচরে, টেনে হিচড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ শক্তি সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বোপরি বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিস্টেমে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে সংস্কার প্রয়োজন।

লেখকঃমোহাম্মদ নাহিদ

Tags:

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *