মেজর(অব.) সিনহা হত্যার ঘটনা তদন্তে সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত দলের গনশুনানি সম্পন্ন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা ঘটনায় স্বরাষ্টমন্ত্রনালয়ের গঠিত তদন্ত দলের গণশুনানির কার্যক্রম দীর্ঘ ৬ ঘন্টা পর শেষ হয়েছে।


১৬ আগস্ট (রবিবার) সকাল ১১টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সিনহা হত্যার ঘটনাস্থল সংলগ্ন টেকনাফ বাহারছড়া শামলপুর ২৩ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসির কার্যালয়ে গনশুনানির এই কার্যক্রম শুরু হয।

শুনানিতে অংশ গ্রহন করার জন্য সকাল থেকে শত শত লোক এসে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও ক্যাম্প এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এরপর সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত মাত্র ১১ জন সাক্ষী শুনানি শুনার পর সেখান থেকে ৯জন সাক্ষীর কথা গুলো নতিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানায় তদন্তকারী দল।

এদিকে শুনানি শেষে তদন্ত দলের আহবায়ক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো.মিজানুর রহমান প্রেস ব্রিফিং’এ উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দীর্ঘ ১৫ দিনের তদন্তের সার্বিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন মেজর সিনহা হত্যার ঘটনাটি সঠিক ভাবে তদন্ত করার জন্য গত ৩ আগস্ট থেকে আমরা তদন্তের কাজ শুরু করি। যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার সেখানে গিয়েছি। প্রতিটি ঘটনাস্থল তিন বার করে পরিদর্শন করেছি। ঘটনার বিষয় বস্তু নিয়ে একটি মানচিত্র তৈরী করেছি।
পাশাপাশি উক্ত ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট টেকনাফ থানা পুলিশ, ফাঁড়ির পুলিশ,তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ,আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন,লাশ ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক, সুরুতহাল তৈরীকারী কর্মকর্তাসহ এই পর্যন্ত প্রায় ৬০জন ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের তদন্তে যেন কোন ভুলত্রুটি না থাকে তার জন্য গনশুনানির আয়োজন করেছি। এই শুনানিতে ১১জন প্রত্যক্ষদর্শির সাক্ষ্য গ্রহন করেছি। এরমধ্যে ঐ দিনের ঘটনার আসল চিত্র যারা সঠিক ভাবে দেখেছে সেই রকম ৯জন প্রত্যক্ষদর্শির কথা গুলো নথিভুক্ত করেছি।
তিনি আরো বলেন, সরকার আমাদেরকে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ২৩ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছে। আমরা তদন্তের শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। আমরা আশা করছি উক্ত সময়ের মধ্যে আমাদের রিপোর্ট প্রস্তুত করে সরকারের কাছে জমা দিতে পারবো।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করে ঘটনার সঠিক তদন্ত চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদস্যদের কাছে কোন বাধা এসেছিল কিনা?
এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন তদন্ত চলাকালিন সময়ে সরকারে বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সদস্যরা চমৎকার ভাবে সহযোগীতা করেছে।
আগামীতে এই রকম দুঃখ জনক ঘটনা যেন না ঘটে সেই প্রস্তাবটি সরকারের কাছে প্রেস করবেন বলে জানান তিনি।

গণশুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ জাকির হোসেন ও লে.কর্ণেল সাজ্জাদ হোসেন, এডিএম মোঃ শাহাজান আলী।
এদিকে গণশুনানি চলাকালিন সময়ের মধ্যে উপস্থিত গনমাধ্যম কর্মিদের কাছে ওসি প্রদীপ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকতের নানা অপকর্মের বর্ণনা চিত্র ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ আদায় করা,নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলা জড়ানোর অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের কাছে মিথ্যা মামলা শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিবার।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন (অব:) সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান।
এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহরিয়ার শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরির্দশক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আর মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে র‌্যাবকে। ইতি মধ্যে মামলার নতুন আইও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *