মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে নগরীর ৫ টি প্রবেশদ্বারে সিটি কর্পোরেশনের চেকপোস্ট।

চট্টগ্রাম-০৯ ডিসেম্বর’২০২০ইং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষায় জনসাধারণকে সচেতন করতে মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে নগরীর পাঁচ পয়েন্টে কর্পোরেশনের কর্মী,চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) কর্ণফুলী রেজিমেন্ট’র সমন্বয়ে চেকপোস্ট বসিয়েছে।

আজ বুধবার (৯.১২.২০) সকাল থেকে নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং,সিটি গেইট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা,অক্সিজেন মোড়,শাহ আমানত সেতুসংলগ্ন মোড়ে এ লক্ষ্যে কর্পারেশন, রেড ক্রিসেন্ট ও বিএনসিসির একটি যৌথ টীম মাঠে নেমেছে। অপর একটি টীম কাজ করছে নগরীর শপিংমল,কাঁচা বাজারগুলোতে।

মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে কর্পোরেশনের নেয়া কার্যক্রমের তদারক করতে আজ বুধবার সকাল ৮টায় প্রথমে নগরীর সিটি গেইট,তারপর অক্সিজেন মোড় ও পরে শাহ আমানত সেতু ব্রিজ এলাকা প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি সিটি গেটে আন্তঃজেলা,অক্সিজেন মোড়ে উত্তর ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় দক্ষিণ জেলা থেকে শহরে ঢুকা বেশকিছু দূরপাল্লার বাস,ট্রাক,লরি থামিয়ে চালক-হেলপার ও যাত্রী সাধারণ মাস্ক পরিধান করছেন কিনা তা কর্পোরেশনের কর্মী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিএনসিসি’র কর্মীদের দিয়ে তল্লাশি চালান। এসময় যারা মাস্ক পরিধান করেনি তাদের শহরে ঢুকতে না দিয়ে বুঝিয়ে নিজ বাসস্থানে ফেরত পাঠান প্রশাসক। সে সময় রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের মাস্ক পরিধান করতে মাইকিং এর পাশাপাশি জনসারণের মাঝে হ্যান্ডবিল, প্রচারপত্র বিলি করথে দেখা যায়।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন করোনা মোকাবেলায় আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করা। একমাত্র সচেতনতায় পারে এই সংক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

দ্বিতীয় কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে চট্টগ্রাম শহরেও সংক্রমণ মারত্মকভাবে বেড়েছে। নগরীর স্বনামধণ্য অনেক ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হয়েছে,হচ্ছে। পত্রিকা-গণমাধ্যম মারফত আমরা সংক্রমণ ও মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান দেখছি তা দিয়ে সঠিকতা নির্ণয় করলে হবে না। অনেকে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও সামাজিকভাবে তা চেপে রাখেন ! কারণ আত্মীয়-পরিজন সমাজের লোকের জানাযা ও দাফন কাফনে উপস্থিত হতে চান না। এটা একধরণের সামাজিক বিড়ম্বনা।

অথচ চিকিৎসকদের মতে মৃত্যুর পরে কোন লাশে করোনার কোন জীবানু থাকেনা। কাজেই এর মাধ্যমে করনোয় সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ তেমন নাই বললেই চলে। বরং জানাযা বা জমায়েতে উপস্থিত উপসর্গ আছে এরকম যেকোন ব্যক্তি থেকে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই ভ্যাকসিন বা টীকা না আসা পর্যন্ত আমাদের স্বাস্থবিধি মেনে ,মাস্ক পরিধান করে, বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কোন বিকল্প পথ নাই। জনসাধারণকে মনে করতে হবে এখন পর্যন্ত মাস্কই টীকা। কোনভাবেই মাস্ক পকেটে, থুতনিতে রাখা যাবে না। যথা নিয়েমে নাক মুখ ঢেকে তা পরিধান করতে হবে। প্রশাসক বলেন আমি চাই আমার প্রিয় প্রাণের চট্টগ্রাম নগরীর ৬০লাখ অধিবাসী নিরাপদে থাকুক। আমার এই কঠোরতাই নগরবাসীর ভুল বুঝার কোন অবকাশ নাই। দেশের স্বার্থে নগরবাসী আমাকে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেনকে সহযোগীতা করবে এটাই প্রত্যাশা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন মাস্ক পরা মানে ৮০ ভাগ নিরাপদ। তিনি বলেন,বর্তমানে সংক্রমন যেভাবে বাড়ছে, তাতে লকডাউন দেয়ার পরিস্থতি বিরাজ করছে। কিন্তু দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে এটা সম্ভব না। তাই সচেতন হয়ে আমাদের এই দুর্যোগ কাটাতে হবে।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *