মাঝে মাঝেই ব্যথায় ছটফট করে সে।

বিশেষ প্রতিবেদক এন এইচ নিরব :
আরাফাত বয়স মাত্র ৬ বছর। এই সময় তার যাওয়ার কথা স্কুলে। অন্যান্য দশটা ছেলের মত খেলাধুলার করার কথা ছিল মাঠে কিন্তু এ বয়সের অন্যান্য শিশুদের মতো দুরন্তপনা নেই আরাফাতের। এমনকি স্কুলেও যেতে পারে না শিশুটি। এক জটিল শারীরিক সমস্যায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করতেছে। মানব দেহে হৃদপিণ্ড থাকার কথা বুকের ভেতর কিন্তু জন্মের পর থেকেই আরাফাতের হৃদপিণ্ডটি বুকের বাইরে।

আরাফাত বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। মাঝে মাঝেই ব্যথায় ছটফট করে সে। তখন দরিদ্র বাবার আল্লাহকে ডাকা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
আরাফাতের বাবা আব্দুল হক পিকআপ চালক। নিজের কোনো জমি জায়গা নেই। অন্যের জায়গায় মাটির একটি ঘর তুলে বসবাস করেন।
এদিকে আরাফাতের জন্মের আড়াই বছরের মাথায় তার মা সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে সৌদি আরব যান। তিন বছর পর দেশে ফিরে সরাসরি চলে যান বাবার বাড়িতে। এরপর আর স্বীমার বাড়িতে ফিরেননি তিনি। খোঁজ নেননি অসুস্থ সন্তান আরাফাতের।
বাবা আব্দুল হক জানান, তার স্ত্রীকে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার শ্বশুর বাড়িতে গেলেও স্ত্রী তার স্বামীর সংসারে আসবে না বলে জানিয়ে দেয়। এরপর থেকে মাতৃস্নেহ বঞ্চিত আরাফাত ফুপির আদরে বড় হচ্ছে।
ফুপি মনোয়ারা বেগম জানান, আরাফাতকে স্কুলে দেয়া যাচ্ছে না। যদি কোনোভাবে তার হৃদপিন্ডে আঘাত লাগে তাহলে সে বাঁচবে না। তাই তাকে ঘরেই পড়ানো হচ্ছে। জন্মের পর থেকেই আরাফাতের হৃদপিন্ডটি বুকের বাইরে ছিল। তখন আকারে ছোট ছিল। এখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদপিন্ডটিও বড় হতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে আরাফাতকে। চিকিৎসা করালেও সুস্থ হয়নি সে। বরং দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তার হৃদপিন্ডে মাঝে মধ্যে অসহ্য ব্যথা হয়। তখন সে ছটফট করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে পাঠাতে হবে। কিন্তু দেশের বাইরে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ তাদের নেই।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *