ভারতের ব্যাঙ্গালোরে বাংলাদেশিদের ধরপাকড়। আগামীতে কোনো ঘর ভাড়া দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার।

অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ভারতের ব্যাঙ্গালোর থেকে কথিত ৬০ বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। অনলাইন দ্য হিন্দু ও ওয়ান ইন্ডিয়া বলছে, তাদেরকে ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে আটক করা হয়েছে। পরে তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে। ব্যাঙ্গালোরের বিভিন্ন অংশে অভিযান চালায় পুলিশ। সম্প্রতি ব্যাঙ্গালোর সাউথের এমপি তেজাস্বী সুরাইয়া বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীরা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কর্নাটক রাজ্যেও এনআরসি করার জন্য। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন অবৈধ অভিবাসীরা শুধু নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই হুমকি এমন নয়, একই সঙ্গে তারা অর্থনীতির জন্যও হুমকি। তাই অবৈধ বাংলাদেশীদের শিকড় উপড়ে ফেলার জন্য প্রয়োজন এনআরসি।

রিপোর্টে বলা হয়, শনিবার কথিত অবৈধ বাংলাদেশী বিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশের সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (সিসিবি)। অভিযান চালানো হয় রামমূর্তিনগর, বেল্লান্দুর ও মারাথাহালি পুলিশ স্টেশনের অধীনের এলাকাগুলোতে। এতে যে ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার মধ্যে ২২ জন নারী ও ৯ জন সংখ্যালঘু যুবতী। একটি ঘেরাও অভিযান পরিদর্শনকারী পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও বলেছেন, এসব বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো ত্বরান্বিত করা হবে। পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার সন্দ্বীপ পাতিল বলেছেন, আটক করা এসব বাংলাদেশী বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার।

তারা এক থেকে দু’ মাসের ব্যবধানে ব্যাঙ্গালোর শহরে গিয়েছে। তারা সেখানে খুব নিম্নমানের কাজেনিয়োজিত ছিলেন অথবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। তাদেরকে যে ব্যক্তি ওই শহরে নিয়ে গিয়েছেন, তিনি অনেক বছর ধরেই অবস্থান করছেন ব্যাঙ্গালোরে। বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকে তিনি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি কিভাবে ওই কার্ড হাতে পেয়েছেন তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।তাদের কাছে যে ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধেও মামলা করছে পুলিশ।  রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্বাই সম্প্রতি তার রাজ্যে এনআরসি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি যে প্রস্তাব করেছেন তার আওতায় কি এই অভিযান কিনা এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে। জবাবে তিনি বলেছেন, সম্প্রতি যেসব ঘেরাও চলছে বা অভিযান চলছে তার সঙ্গে এনআরসির কোনো সম্পর্ক নেই। এটা পুলিশের রুটিন কাজ। তবে এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনেক বেশি মানুষকে। আটক করা হয়েছে আফ্রিকান নাগরিকদেরও। এই ঘটনায় বৈধ বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্বাধীন কন্ঠ / আন্তর্জাতিক

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *