ভাই এর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট সাবেক প্রবাসী সেনা কর্মকর্তার আকুতি!

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিঃ
এভাবে দেশের অদক্ষ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বলি আমরা আর কতদিন হব?

ওয়ারেন্ট অফিসার (অবঃ) এম এ কুদ্দুস দেওয়ান

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
অনেক ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এই লিখা, জানিনা আপনার কাছে পৌঁছবে কিনা।আমি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার এবং আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষক, সংযুক্ত আরব আমিরাতে উনিশ বছর তাদের সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ওখান থেকেও অবসর নিয়ে বাংলাদেশে এসে সামাজিক কাজকর্মে জড়িয়ে আছি।

আমার বড় ভাই আহাম্মদ দেওয়ান, নারায়নগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট সুতার ব্যাবসায়ী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, ধার্মিক, ন্যায় পরায়ন, গত পনেরো বছর যাবত গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।
গত ২/৬/২০ইং তারিখে রাতে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে সু চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। ঢাকার সনামধন্য সকল চিকিৎসা কেন্দ্রে তিন ঘন্টা ঘুরে কোথাও সিট না পেয়ে ভোর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন আমার ক্যান্টনমেন্টস্হ বাসা হতে ভাইকে দেখার জন্য ঢাকা হাসপাতালে যাই। ওখানে খোলা ওয়ার্ডে, প্রচুর গরম, অনেক লোকের সমাগম সর্বোপরি করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন দিয়ে রেখেছে, এই দেখে আমি ডাক্তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারি এরচেয়ে বেশী এদের কিছু করার নেই। আমি ভয় পেয়ে যাই, কারন ওনার সাথে ওনার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দ্বিতীয় ছেলে কাইয়ুম দেওয়ান, কাইয়ুমের স্ত্রী এবং অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী ছোট ছেলে মাইনুদ্দিন দেওয়ান। ঐ পরিবেশ তাদের জন্য মোটেই নিরাপদ ছিলনা। তাই আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব সবাইকে নক করে ভালো হাসপাতালের খোঁজ করে ঢাকা মোয়াখালীস্হ “ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ” এর সন্ধান পাই। ওখানে করোনা সনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত সুচিকিৎসা দিবে, করোনা সনাক্ত হওয়ার পর তারা করোনা হাসপাতালে রেফাড্ করবে।(উল্লেখ্য, এর আগের দিন করোনা টেষ্টের জন্য সেম্পল দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রে)। ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস এর সাথে কথা বলে আমরা পারিবারিকভাবে পরামর্শ করে ঢাকা হাসপাতাল হতে কেন্সেল করে ওখানে চলে যাই। যাওয়ার সাথে সাথে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে তিন ঘন্টা অবজারভেশনে রাখার কথা বলে আই সি ইউ তে ডুকিয়ে অক্সিজেন দিয়ে রাখে। আমাদের ডুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা সবাই টেনশনে আছি। জোড় করে মাঝেমধ্যে ডুকে খবর নিচ্ছি, অক্সিজেন নিয়ে বসে আছেন। বুজতেছিলাম বেস কষ্ট হচ্ছে ওনার। এর মাঝে তিনটি টেষ্ট হয়ে গেছে, রেজাল্ট, তাদের কথা ‘করোনা’ নিশ্চিত।

ভয় পেয়ে গেলাম, পরিনাম কি হবে ছেলেদেরকে বুঝতে দিলাম না। ওদিকে মেডিকেল থেকে বলছে তারা রাখবেনা, সিট নেই। তাদের আমন্ত্রণে সিটের কথা ও সু চিকিৎসার কথা স্মরন করিয়ে চাপ দিলে তারা রাখতে বাধ্য হয়। টাকা পয়সা দিয়ে সব কিছু ঠিক করে ছেলেদেরকে বাসায় যেতে বলে আমি সন্ধার পরে বাসায় চলে আসি। ক্লান্ত শরীরে গোসল করে শুয়েপরি। রাত সারে এগারোটার দিকে কাইয়ুম ফোন করে ‘কাকা, আব্বারে ওরা মাইরা ফেলছে’। সাথে সাথে গিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানি উনার অক্সিজেন ফল করছে তাই মারাগেছেন। ম্যানেজমেন্টের বস আসলেন কথা হলো’ এতো নামী দামি হাসপাতাল আপনাদের, এটা কি করলেন? উত্তর একটাই আপনি জানেন করোনার রুগীর কি হয়? আপনারা দেরী করে আসছেন। ‘ সব দোষ আমাদের। ছোট ছেলে মানতেই চায় না, ” আমার আব্বারে ওরা মেরে ফেলেছে” ওদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে আসছে। করোনার রুগী বলে সব মেনে নিলাম।
কাগজ পএ তৈরী করতে বললাম। এম্বুলেন্স ডাকা হলো। ভোরে এলাকায় পৌঁছে বিশেষ টিম দ্বারা গোসল করিয়ে অতি সাবধানে সমাহিত করা হয়। কারন ওনি করোনার রোগী, তাই কাউকেই কাছে আসতে দেওয়া হয়নি।তার সাথে আগত সবাইকে গ্রাম ছেড়ে শহরে ( নিজ বাসায়) চলে যেতে বললাম। আমিও চলে আসি।

ঢাকা যাএাবাড়ির কাছা কাছি এসে খবর পাই করোনা টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ।”তাহলে তিনি শুধুই শ্বাস কষ্টের রোগী ছিলেন।”

প্রশ্ন, ১/ একটা মেডিকেল কলেজ যদি একজন শ্বাসকষ্ট রোগীর চিকিৎসা করতে না পারে তা হলে ওরা এদেশের ছেলেদের কি শিক্ষা দিছেছ।
২/ ওরা ভূল চিকিৎসায় আমার ভাইয়ের জীবন নিয়ে নিয়েছে।
৩/ ওরা একজন সমাজ সেবক, সমাজ পতি, গরীবের বন্ধুর, অসহায় মানুষের আশ্রয় স্হল কেরে নিয়েছে।
৪/ ওরা একজন জনপ্রিয় ইউপি সদস্যকে মেরে ফেলেছে।
৫/ ওরা একটা পরিবারকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
৬/ ওরা একটা সমাজকে এতিম করে দিয়েছে।

ওদের বিচারের জন্য এলাকা বাসি তথা দেশবাসি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী, ডিবি পরিচালক, র‍্যাব পরিচালক সহ সকল দ্বায়িত্বশীল সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। আশা করছি এর সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচার হবে।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *