বিশ্বব্যাংকের আদালতে বাংলাদেশের জয়

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়মুক্তি চেয়ে করা মামলায় হেরে গেছে কানাডীয় কোম্পানি নাইকো। চুক্তিভঙ্গ করে গ্যাস তোলার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটায় বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে নাইকোকে নির্দেশ দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের বিশেষ আদালত। চূড়ান্ত রায়ে বাংলাদেশ প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সিলেটে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে ২০০৩ সালে নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করে বাপেক্স। কূপ খননকালে ২০০৫ সালের জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুড়ে যায় মজুদ গ্যাস। আশপাশের সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

দুর্ঘটনার জন্য পেট্রোবাংলা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও দিতে অস্বীকৃতি জানায় নাইকো। ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করে পেট্রোবাংলা। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের বিল দেয়া বন্ধ রাখে।

দুর্ঘটনায় দায়মুক্তি চেয়ে ২০১০ সালে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট- ইকসিডে দুইটি মামলা করে নাইকো। যার একটির রায় নাইকোর পক্ষে গিয়েছিলো। অন্য মামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয় ইকসিড।

নাইকো বাংলাদেশকে কি পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিবে তা চূড়ান্ত হবে সেপ্টেম্বরে পরবর্তী শুনানিতে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক পরামর্শক দলের মাধ্যমে জরিপ করা হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

২০১৬ সালে ইকসিডের কাছে পাঠানো তথ্যে নিজেদের ১ হাজার কোটি টাকা, এবং পেট্রোবাংলা ও রাষ্ট্রীয় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ক্ষতির কথা তুলে ধরে বাপেক্স। এর বাইরে পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতিপূরণ ও মামলার খরচের টাকা গুণতে হবে নাইকোকে।

Source:Independent

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published.