বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ড. রাজ্জাক আর নেই

সিডনি বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রাণপুরুষ এবং বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিক্ষাবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক আজ সিডনিতে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহে..রাজেউন)। তিনি বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তিনি বেশ কয়েকবছর যাবৎ দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভূগছিলেন। গত তিন মাস আগে তাঁর লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে। আজ ২২ ডিসেম্বর দুপুর দুইটার দিকে তিনি সিডনির নরওয়েস্ট প্রাইভেট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

বন্ধুদের সাথে ডঃ আব্দুর রাজ্জাক।


ড. আব্দুর রাজ্জাক ১৯৪৬ সালে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। অস্ট্রেলিয়া আসার আগে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। পরে আমেরিকায় আইন বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। এরপর তিনি সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেলেন। তাঁর ঘণিষ্ঠজন আনিসুর রহমান নান্টু প্রশান্তিকাকে জানান, হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট পেতে সময় লাগছে। তবে তাঁর নামাজে জানাযা আগামীকাল দুপুরে লাকেম্বা বড় মসজিদে হতে পারে। এরপর তাঁকে সিডনির রিভারস্টোন কবরস্থানে সমাহিত করা হতে পারে। তবে এখনও কোনটাই নিশ্চিত করা হয়নি।ড. আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুতে সিডনি বাঙ্গালী কমিউনিটিতে এক শোকের ছায়া নেমে আসে কমিউনিটি নেতা গামা আব্দুল কাদের তাঁর শোকবার্তায় বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়াত ড.রাজ্জাক একজনঅমায়ীক স্বভাবের ভদ্রলোক ছিলেন তাঁর মৃত্যুতে আমিগভীর ভাবে শোকাহত দীর্ঘ ৩০ বছর সিডনিররাজনৈতিক অঙ্গনে একই আদর্শের পথ চলার সাথী প্রয়াত ড. রাজ্জাক ছিলেন আমার একজন রাজনৈতিক বন্ধু, একই আদর্শে বিশ্বাসীবর্তমানে সিডনির বিভক্ত দুইটি রাজনৈতিক দলের সাথে দুইজন জড়িত কিন্তু  আমাদেরসামাজিক এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঠিক আগের মতই 
বিদ্যমান ছিল।

কলামিস্ট ও লেখক অজয় দাশগুপ্ত এক শোকবার্তায় বলেন, “আমরা আজ প্রকৃত এক বাঙ্গালী নেতাকে হারালাম যিনি স্বীয় চেষ্টায় এই সিডনির কমিউনিটিতে বাঙ্গালীদের দাঁড় করিয়েছেন। এজন্য তাঁর বাড়ি বন্ধক রাখার ঝুঁকি নিতেও তিনি পিঁছপা হননি । তাঁর হাত ধরেই বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল গড়ে উঠেছে। আজকের এতো বড় যে বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের বৈশাখী মেলা তাঁর চেষ্টাতেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।”

ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন এক শোকবার্তায় বলেন, “অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তার পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অত্যন্ত স্নেহধন্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অধিকারী ড. রাজ্জাক বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ারও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সিডনির বাঙালি কম্যুনিটির কাছে তিনি ছিলেন নির্ভরতার এক অনন্য প্রতীক। তার অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন সিডনির বাঙালি কমিউনিটিতে অনুভূত হবে।”

আল নোমান শামীম তাঁর শোকবার্তায় বলেন, “অত্যন্ত বর্নাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অধিকারী, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহসী পুরুষ প্রিয় রাজ্জাক ভাইয়ের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি, আমার পরিবার ও অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের পক্ষ্য থেকে আমরা শোক জ্ঞাপন করছি। তিনি সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।”

তথ্যঃ ইন্টারনেট।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *