প্লাজমা বা রক্তরস দানের গুরুত্ব ও উপকারিতা

প্লাজমাদান একটি মহৎ কাজ। এতে জাগ্রত করে মানবিক অনুভূতি! প্লাজমাদান করা মানে মানবতার কল্যাণে পাশে থাকা। আমাদের এক ব্যাগ প্লাজমা হাসি  ফোটাতে পারে একজন মায়ের, একজন বাবার, একজন স্ত্রীর, একজন সন্তানের । হয়তো আমাদের প্লাজমাতে বেঁচে যেতে পারে একটি পরিবারের একমাত্র আয় উপার্যনের বাহকের।
প্লাজমাদানের মাধ্যমে হাজারো মুমূর্ষু ব্যক্তিদের জীবন বাঁচতে পারে।চলেন আমরা প্লাজমা কি তা জানার  চেষ্টা করি।


রক্তের তরল, হালকা হলুদাভ অংশকে রক্তরস (plasma) বলে। রক্তকণিকা ব্যতীত রক্তের বাকি অংশই রক্ত রস।মেরুদন্ডী প্রাণিদের রক্তের প্রায় ৫৫% রক্তরস।রক্তরস হল রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি হালকা হলুদাভ তরল যা সাধারণত দেহের বিভিন্ন প্রকার রক্তকোষ ধারণ করে।রক্তরস মূলত কোষপর্দার বাইরের রক্তগহ্বরের  তরল পদার্থ। এর ৯৫ শতাংশ হল জল এবং ৬-৮% শতাংশ প্রোটিন,গ্লুকোজ,হরমোন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড । 
প্লাজমা আপনার সারা শরীর জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি, হরমোন এবং প্রোটিন সরবরাহ করে, তবে অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য এটির  প্রয়োজন অপরিসীম । চলেন আমরা প্লাজমার ব্যবহার দেখে নেই। 

প্লাজমা ব্যবহার (অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস)
১ চিকেন ফক্স রোগের  চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়। 
২ মস্তিষ্ক ব্যাধিগ্রস্তের চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়। 
৩ ইমিউন ডেফিসিয়েন্সিসের চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়। 
৪ টিটেনাসের চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়। 
৫ আরএইচ রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। 
৬  এটি সাধারণ হিউম্যান ইমিউনোগ্লোবুলিন (এনএইচআইজি) নামে একটি ওষুধ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
৭ রক্ত ব্যাধি প্রতিরোধে কাজ করে। 
৮  লিভার ডিজিজ প্রতিরোধে কাজ করে। 
৯ অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন কাজে ব্যবহৃত হয়।
১০ হেমোফিলিয়া রোগের  চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়।
১১ ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস রোগের  চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়।
১২ হার্ট সার্জারিতে প্লাজমা ব্যবহার করা হয়।
১৩ হেপাটাইটিস বি রোগের  চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়।
১৪ কিডনীর রোগের  চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়।
১৫ রেয়ার ব্লাড ডিসর্ডার্সে প্লাজমা ব্যবহার করা হয়।

প্লাজমা বা রক্তরস দানের উপকারিতা 

১.প্লাজমা বা রক্তরস দানে একটি মিনি স্বাস্থ্য চেকআপ হয়ে যায়।নিয়মিত স্বেচ্ছায় প্লাজমাদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কিনা তা বিনা খরচে জানা যায়। যেমন: হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।

২.দানের জন্য প্রস্তুতি দানকারীকে তার আরও ভাল যত্ন নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।

৩.দাতার কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে।

৪.মানুষিক আনন্দ পাওয়া যায়।

৫.প্রতি একবার প্লাজমাদানে ৬৫০ ক্যালরি করে শক্তি খরচ হয়। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৬.প্লাজমাদান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুণ্যের বা সওয়াবের কাজ। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *