পুঁজিবাজারে সূচক ও মূলধনে রেকর্ড

বাজেটের পর থেকে চাঙ্গাভাবে ফিরেছে পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে লেনদেন ও মূল্যসূচক। এতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ও বাজার মূলধনে রেকর্ড হয়েছে। প্রধান মূল্যসূচক গত সাড়ে চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার পর নতুন গতিতে ফিরেছে পুঁজিবাজার। বাজেটে পোশাক খাতের করপোরেট কর কমানো হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবি নতুন করে কয়েক হাজার কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এগিয়েছে বাজার। বাড়ছে মূল্যসূচক ও লেনদেন।

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার ডিএসইতে প্রধান সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭৮২ পয়েন্ট। এর আগে মূল্যসূচকে রেকর্ড ছিল পাঁচ হাজার ৭৭৭ পয়েন্ট। গত জানুয়ারিতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে সূচকের ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখিতায় এপ্রিলে সর্বোচ্চ অবস্থান পৌঁছায় এ মূল্যসূচক। তবে এই সময়ের পর বাজার নিম্নমুখী হলে ক্রমাগতভাবেই কমতে থাকে সূচক, যা অনেক নিচে নেমে যায়। তবে বাজেটপরবর্তী আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বাজার।

ডিএসই সূত্র জানায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই সময় চার হাজার ৫৫ পয়েন্টে সূচক চালু হয়। এই সূচক চালুর পর ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর সর্বোচ্চ সূচক উঠেছিল পাঁচ হাজার ৩৩৪ পয়েন্ট। চলতি বছরের শুরুতে বাজার গতিশীল হলে আবারও সূচক অতীতের রেকর্ড ভেঙে দেয়। সম্প্রতি আবারও অব্যাহতভাবে লেনদেন ও সূচকের উত্থানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। যাত্রার পর থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে।

চলতি বছরের গত ছয় মাসের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নতুন বছরের শুরু থেকে ক্রমাগতভাবে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। চলতি বছরের প্রথম দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৮৩ পয়েন্ট। যদিও গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই ঊর্ধ্বমুখী হয় পুঁজিবাজার। এক মাস ব্যবধানে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন ডিএসইর সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৪৭৩ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক মাসে ৩৯০ পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তী ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সূচক বেড়েছে ১২৪ পয়েন্ট।

মার্চ-এপ্রিলে সূচক বাড়ে ৯৪ পয়েন্ট। ৭ এপ্রিল চার বছরের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৭৭৭ পয়েন্ট স্থানে দাঁড়ায় ডিএসইর সূচক। তবে এই সময়ের পর থেকেই কমেছে মূল্যসূচক। ৭ এপ্রিলের পর থেকে মে মাসের আগ পর্যন্ত সূচক ২৫৬ পয়েন্ট। মে-জুন মাসে সূচক কমে ৮৩ পয়েন্ট। জুন মাসের প্রথম দিন সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৪৩৮ পয়েন্ট। তবে ২ জুলাই এই সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৬৫৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ এই সময়ে সূচক বেড়েছে ১৮১ পয়েন্ট। আর এই সময়ের পর তিন কার্যদিবসে সূচক বাড়ে ১২৮ পয়েন্ট, যা ডিএসইর মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ বা রেকর্ড।

বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৬৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে ২২ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২২৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল ৩৪ পয়েন্ট। সেই হিসাবে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমলেও বেড়েছে সূচক। একই সঙ্গে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর টানা ১৩ মিনিট সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। এই সময়ের পর সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সূচক নিম্নমুখী হয়। এতে আগের দিনের চেয়ে সূচক কমে। তবে সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটের পর থেকেই একটানা ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচক। এতে সূচকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭৮২ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ১২০ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩২৯ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১৩৬টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫ কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে বারাকা পাওয়ার। কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কেয়া কসমেটিকসের লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অন্যান্য শীর্ষ কম্পানি হচ্ছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, রিজেন্ট টেক্স, ব্র্যাক ব্যাংক, ফু-ওয়াং ফুড, সাইফ পাওয়ার, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।

দাম বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে ন্যাশনাল হাউজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, কেয়া কসমেটিকস্, ইসলামী ইনস্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স, সায়হাম কটন, ফু-ওয়াং ফুড, সিএপিএম বিডিবিএল মি. ফা. ও বারাকা পাওয়ার। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে রয়েছে বিচ হ্যাচারি, বিডি ওয়েল্ডিং, লিগেসি ফুটওয়্যার, বিডি অটোকারস, রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স, আইএসএন লিমিটেড, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এমারেল্ড অয়েল, জেমিনী সি ফুড ও মেঘনা পেট।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬৯ কোটি ৩৯ পয়েন্ট। আর মূল্যসূচক বেড়েছে ২৯ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮০ কোটি ৪১ লাখ টাকা আর সূচক বেড়েছিল ৭৭ পয়েন্ট। বুধবার লেনদেন 

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *