নগরীর হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার পরিকল্পনা চ.সি.ক মেয়রের

হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনতে মেয়রের প্রচেষ্টা; সংশ্লিষ্ট দপ্তরের টানাপোড়ন

হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করেছে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতি। ধারাবাহিক কার্যক্রম শেষে তাদের সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু জনবল সংকটে থমকে আছে তাদের শেষ প্রস্তুতি।

অপরদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য প্রশাসন তাদের এই উদ্যোগে সহায়তা করছে, হাসপাতাল প্রস্তুতের কাজ ত্বরান্বিত করতে একটি সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কে আহবায়ক ও মেক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান কে সদস্য সচিব করা হয়।

ইতোমধ্যে ৮০ টি আইসোলেশন ও ১২ টি আইসিইউ এবং কয়েকটি এইচডিইউ শয্যায় সমন্বিত এই করোনা হাসপাতালটি, এত আয়োজনের পরেও সরকার কতৃক জনবল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সহায়তার টানাপোড়েনে ব্যাহত হচ্ছে সেবা দানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কতৃক মেয়র এর সরকারি একান্ত সচিব আবুল হাশেম দি বাংলাদেশ টুডে’কে বলেন, শুধুমাত্র করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ঢাকায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়েছে সরকার। এর আদলে চট্টগ্রামে বেসরকারি উদ্যোগে প্রস্তুত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার চেষ্টা করছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গত ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক বৈঠকে  হলি ক্রিসেন্ট করোনা হাসপাতালটি কে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দপ্তরকে নির্দেশনা দেন ।

চট্টগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান দি বাংলাদেশ টুডে’কে বলেন, শনিবার থেকেই চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল। কিন্তু শনিবার হাসপাতালটি প্রস্তুত হয়েছে এমন ঘোষণা দিতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হাসপাতালটি তৈরি করে দিয়েছি। চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ নিয়োগ করতে একটু সময় লাগছে। এটি চাইলে মাত্র পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা এ বিষয়ে স্বাস্থ্য পরিচালকের সাথে কথা বলছি। আশা করি একটা সমাধান পাওয়া যাবে। আজ ২৬শে এপ্রিল সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মহোদয়ের সাথে মিটিং করা হয়েছে, তিনি নগর পিতা ও এই করোনা হাসপাতালের আহবায়ক হিসেবে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল এর একটি প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করে জমা দিতে বলেছেন এবং আমাদের কে বলেছেন অসম্পূর্ণ কাজ চালিয়ে যেতে বাদবাকি দায়িত্ব উনার, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে নেবেন।

প্রসঙ্গ কারণে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা সেখ ফজলে রাব্বি মিয়া দি বাংলাদেশ টুডে’কে বলেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বরাবরে আগে উনারা প্রোফাইল জমা দেক এর পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দায়িত্বশীলগন যা সিদ্ধান্ত নেবেন বা আমাকে যা নির্দেশনা দিবেন আমি তা পালন করবো, তবে সরকারি ভাবে সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত হাসপাতালটি চালু রাখবেন বা শুরু করবেন কিনা সেটা একান্ত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতি বিষয়।

অন্যদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে ১২টি প্রাইভেট হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা ছিল, কিন্তু হাসপাতাল গুলোর কতৃপক্ষ এগুলোর পরিবর্তে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি প্রস্তুত করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু এখন তারা জনবল চাচ্ছে, তাদের ছাড় দিয়ে এ হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটির কথা বিবেচনায় রেখেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর । এখন হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল কতৃপক্ষকে আপাতত কোন প্রকার সহযোগিতা করা সম্ভব নয়।

চলমান কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সহ সভাপতি ডা. এ টি এম রেজাউল করিম জানান, যেখানে চট্টগ্রামের নগর পিতা ও সিটি মেয়র আছেন সেখানে আমাদের সহযোগিতার কোন অভাব হবে না, তাছাড়া আমরা সরকারের মহতি উদ্যোগ এর অংশ মাত্র, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে ঐক্যমত পোষণ করছি সুতরাং জনবল নিয়ে সরকারিভাবে সিদ্ধাস্ত নিতে হবে, সরকার চাইলে উপজেলা পর্যায়ের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এই হাসপাতালে নিয়োগ দিতে পারেন।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *