দাম বেড়েছে সব নিত্যপণ্যের

পেঁয়াজ রসুন আদা ডাল ছোলা সহ দাম বেড়েছে সব নিত্যপণ্যের

করোনা ভাইরাসে প্রভাবে থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব মেনে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। সাধারণ ছুটিও বাড়ানো হয় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। ওইদিন থেকে আবার রমজান শুরু। সামনে সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে সেটি প্রশ্ন থাকলেও রমজানের আগেই পাইকারীতে ভোগ্যপণ্যের বাজার বেড়েই চলেছে। করোনা পরিস্থিতিতেও স্বস্তি ছিল পেঁয়াজের বাজার। তবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। এছাড়া আদা, রসূন, ছোলাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের অবস্থা খারাপ। পণ্য আমদানিতে সময় লাগছে। আবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সঠিক সময়ে পণ্য খালাসও হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক পণ্যের বুকিং দর বেড়ে গেছে। ভারত ও মিয়ানমারে লকডাউনের কারণে পেঁয়াজ আসছে না। এছাড়া খাতুনগঞ্জে শ্রমিকের সংকট রয়েছে। পরিবহন ভাড়া হয়ে গেছে দ্বিগুণ।


খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। রসূন ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা, আদা ১০০ টাকা বেড়ে ২৫০ টাকা, মশুর ডাল ১০ টাকা বেড়ে ৮৫ টাকা, মটর ডাল ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা ও খেসারি ডাল ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। এছাড়া কিসমিস ৫০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা, ভারতীয় জিরা ১০০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকা ও ছোলা ৫ টাকা বেড়ে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে হলুদের দাম ২৫ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভারতীয় মরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ টাকায়।
দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, বর্তমানে বাজারে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ সংকট রয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্বে লকডাউন চলছে। বন্দর থেকে পণ্য আসতে দেরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই বাজারও চড়া।
জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আজাদীকে বলেন, করোনায় আক্রান্ত পুরো দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অফিস আদালত, কলকারখানা, সব কিছুই বন্ধ। কয়দিন পরই মাহে রমজান। একেতো মানুষের আয়ের পথ বন্ধ। আবার এই সময়েও ব্যবসায়ীদের চরিত্র পরিবর্তন হয়নি। রমজানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোগ্যপণ্য ছাড়মূল্যে বিক্রি হয়। অথচ আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা রমজান, পূজো পার্বণ বা উৎসবকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের পকেট কাটার উৎসবে মাতোয়ারা হন। আবার এই মূহূর্তে প্রশাসনের বাজার মনিটরিংটাও সেভাবে করা হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরাও নিজের ইচ্ছে মতো দাম নিচ্ছেন। যার খেসারত গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। তাই প্রশাসনকে নিয়মিত বা মনিটরিং করতে হবে। অন্যদিকে ত্রাণচুরি এবং টিসিবির পণ্য ডিলারদের বাড়ীতে পাওয়ার ঘটনা রোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে অতিদরিদ্রদের জন্য রেশনিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
এম এম ইলিয়াছ উদ্দিন নামের একজন ক্রেতা জানান, দেশে এখন দুর্যোগ চলছে। প্রতিনিয়ত মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও কিছু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার চিন্তা থেকে সরে আসতে পারছে না। মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অধিকাংশ চাকরিজীবী মার্চ মাসের বেতন পায়নি। এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ করোনায় না মরলেও না খেয়ে মরবে।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *