দাবানল: সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

বাড়তে থাকা তাপমাত্রা তীব্র বাতাসের সহযোগিতায় দাবানল বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার তিনটি অঙ্গরাজ্যকে চলতি মৌসুমের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।

অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে বুধবার সাউথ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যে ‘বিপর্যয়কর মাত্রার’ সতর্কতা জারি হয়েছে।

দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ মাত্রার বিপদ সতর্কতা বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভিক্টোরিয়ার অঙ্গরাজ্যের একাংশেও বৃহস্পতিবারের জন্য একই মাত্রার সতর্কতা জারি হয়েছে; বিপদ সতর্কতার মাত্রা বেড়েছে তাসমানিয়ার ক্ষেত্রেও।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য অংশে গত মাস থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ দাবানলে ইতিমধ্যে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) ও কুইন্সল্যান্ডের ওই দাবানলগুলো এরই মধ্যে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ভস্মীভূত করেছে। খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কুফলের কারণেই ‘অভূতপূর্ব’ এই দাবানল কিনা, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ধুন্ধুমার বিতর্কও সৃষ্টি করেছে।

দাবানলের ধোঁয়া মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিড়নিকেও আচ্ছাদিত করে রেখেছিল। ধোঁয়ায় সৃষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে শহরটির কয়েক ডজন বাসিন্দাকে সেদিন প্যারামেডিকদেরও শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। 

বিবিসি লিখেছে, বুধবার সাউথ অস্ট্রেলিয়ার একাংশের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর এবং ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার বেগের বাতাসের কারণে দাবানল বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ অঙ্গরাজ্যটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

নতুন অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি হতে পারে, এই শঙ্কায় কর্মকর্তারা প্রায় ১০ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

“অঙ্গরাজ্যটির সব এলাকাই আজ বিপদের মধ্যে আছে, নতুন করে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পরিস্থিতি দমকল কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে,” বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার দমকল বিভাগের এক মুখপাত্র।

দক্ষিণের এ অঙ্গরাজ্যটি গত ৯ মাস ধরে যে শুষ্কতা দেখেছে, এমনটি এর আগে কখনোই দেখেনি বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া বিভাগ। সামনের মাসগুলোতেও ‍বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, বলেছে তারা।

কর্তৃপক্ষ ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তরাংশেও বৃহস্পতিবারের জন্য ‘কোড রেড’ জারি করেছে; এ সতর্কতা ‘বিপর্যয়কর মাত্রার’ সমকক্ষ বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সতর্কতা জারি হওয়া এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতেও পরামর্শ দিয়েছে তারা।

“এসব স্থানে অবস্থান করবেন না। যদি আগুন লাগে, বাঁচতে পারবেন না,” স্থানীয় ফায়ার চিফ স্টিভ ওয়ারিংটন তার সাবধানবাণীতে এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য এইজ।

তাসমানিয়াতেও ‘ভয়াবহ’ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে অঙ্গরাজ্যটিতে জারি হওয়া এ সর্বোচ্চ সতর্কতার অর্থ হচ্ছে, কোথাও আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য হবে।

আবহাওয়ার কারণে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের এখনকার দাবানলগুলো আরও ক্ষতিকর হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *