ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জাতিয় পতাকার অবমাননা করবেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা। যারা ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করবেন, সাইবার ক্রাইম কিংবা হ্যাকিং করবেন তাদের শাস্তির আওতায় আনাই এই আইনের উদ্দেশ্য। এই আইনে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা দেখভাল করার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি থাকবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল নামে একটি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল থাকবে যার প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে কী বোঝায়?
‘‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’’ বলতে বোঝায় যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদগণকে প্রাণোৎসর্গ করতে উৎসাহিত করেছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায়?
‘‘ডিজিটাল নিরাপত্তা’’ বলতে বোঝায় কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল সিস্টেম এর নিরাপত্তা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি কত সদস্য বিশিষ্ট?
ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি :
৩ সদস্যের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি থাকবে। যার একজন মহাপরিচালক ও দুজন পরিচালক। (ধারা ৫)

ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান কে?
ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল :
১৩ সদস্যের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল থাকবে। যার প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী। মহাপরিচালক হবেন সদস্য-সচিব।

প্রোপাগান্ডা :
যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে:
১) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরিদ্ধে ;
২) জাতির পিতার বিরুদ্ধে ;
৩) জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে;

কোন প্রকার প্রোপাগান্ডা চালায় বা মদদ দেয় তাহলে তার শাস্তি হবে ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা বা উভয়।
এই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ৩ কোটি টাকা বা উভয়। (ধারা :২১)

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:
১) ডিজিটাল ডিভাইসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার শাস্তি কী?
২) ডিজিটাল ডিভাইসে জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার শাস্তি কী?
৩) ডিজিটাল ডিভাইসে জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার শাস্তি কী?

সাইবার ক্রাইম:
যদি কোনো ব্যক্তি: —
– রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা; এবং
– জনগণের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধ করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি সাইবার সন্ত্রাসের অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে।
এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জড়িমানা বা উভয়। ( ধারা :২৭)

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:
১) সাইবার ক্রাইম কী?
২) এর শাস্তি কী)

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত:
যদি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে :
– আঘাত করার উদ্দেশ্যে বা
– উস্কানি দেয়ার উদ্দেশ্যে ; ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এমন কিছু প্রচার করে যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে তাহলে উক্ত ব্যক্তির কাজ একটি অপরাধ।
এর শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছর বা ১০ লাখ টাকা জড়িমানা বা উভয়। (ধারা:২৮)

নিচের প্রশ্নের উত্তর দিন:
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলতে কী বোঝায়?

মানহানি অপরাধ:
যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য :
– প্রকাশ করেন বা
– প্রচার করেন, তাহলে সেটি একটি অপরাধ।
এর সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছর বা সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা জড়িমানা বা উভয়। (ধারা :২৯)।

নিচের প্রশ্নের উত্তর দিন:
১) মানহানি কী?
২) মানহানির শাস্তি কী?

‘‘হ্যাকিং’’
অন্যের কম্পিউটারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে উহার নিয়ন্ত্রণ নেয়াকেও হ্যাকিং বলে। হ্যাকিং এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা। (ধারা :৩৪)।

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:
১) হ্যাকিং কী?
২) এর শাস্তি কী?

সরকারী গোপনীয়তা ভঙ্গ:
সরকারী চাকুরীতে থাকাবস্থায় সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গ করলে শাস্তি কী?
– সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদন্ডে বা সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা জড়িমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:
১) সরকারী গোপনীয়তা ভঙ্গের শাস্তি কী?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কোন আইন থেকে সৃষ্টি হয়েছে?
– তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ থেকে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন কি এখনও আছে?
– জ্বি আছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার কোথায় করা হবে?
– তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালে।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কারা?
সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন একজন ব্যক্তি। যার পদমর্যাদা হবে:
– একজন দায়রা জাজ ; বা
– অতিরিক্ত দায়রা জাজ।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কোথায়?
– সাইবার আপিলেট ট্রাইব্যুনালে।

সাইবার আপীল ট্রাইব্যুনাল কিভাবে গঠিত হয়?
সাইবার আপিলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্য হবেন ৩ জন। যথা:
– সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদমর্যাদার একজন সদস্য। যিনি হবেন চেয়ারম্যান।
– জেলা জাজ পদমর্যাদার একজন সদস্য।
– তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন সদস্য।

সূত্র: ইমরান হাসান(FACEBOOK)

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *