“ঝুঁকিতে নগরবাসী”

চট্টগ্রাম সড়কে গণপরিবহন, রাস্তায় গার্মেন্টসকর্মীর ভীড়, “ঝুঁকিতে নগরবাসী”

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আগামী ৫ই মে পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধেরনির্দেশনা থাকলেও চট্টগ্রাম নগরীর নানান সড়কে চলছে যাত্রীবাহী বাস ও টেম্পো।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, ২নং গেইট, জিইসি মোড়সহ নানান গুরুত্বপূর্ণসড়কে চলছে যাত্রীবাহী বাস ও টেম্পো। এসব মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই চলছে যাত্রী উঠানামা। যাত্রীদের বেশিরভাগই গার্মেন্টস বা অন্যান্য কারখানার শ্রমিক।

মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা না মেনে সামাজিক দূরত্বকে থোড়াই কেয়ার করে চলা এসব পরিবহনে উঠানো হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী, যাদের অনেকেরই নেই যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম। ফলে খুব সহজেই শহর জুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রামিত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নির্দেশনা না মেনে সড়কে এভাবে গণপরিবহন চালানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে বাস ড্রাইভার রহিম উল্লাহ ঢাকাটুডেকে বলেন, “অনেকদিন ধরে গাড়ি চালাতে পারিনি তাই ইনকাম ও বন্ধ ছিল। এখন বাড়িতে খাবার নাই, বউ বাচ্চা নিয়ে খেয়ে বাঁচার জন্য রিস্ক আছে জেনেও গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি।”

তবে আরেক বাস ড্রাইভার মোঃ আমিন শুনালেন অন্য গল্প। তিনি বলেন, “আমরা এমনিতেই খেতে না পেরে কষ্টে আছি তার উপর গার্মেন্টস খোলার কারণে নানান এলাকা থেকে শ্রমিকরা এসে রাস্তায় ভীড় জমায় গাড়ির জন্য, তাই ইনকামের লোভে করোনার ঝুঁকি মেনে নিয়েও গাড়ি নিয়ে ভাড়া মারতে বের হয়েছি। সরকার যাদের মাধ্যমে ত্রান দিচ্ছে তারা তো ত্রানের খাবার চুরি করে খাচ্ছে, অপর দিকে গাড়ি বন্ধ থাকলে ঠিক মত বেতন ও পাই না। তাই এভাবে গাড়ি নিয়ে বের হতে বাধ্য হচ্ছি।”

এব্যাপারে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র মুস্তাফিজুর রহমান ঢাকাটুডেকে বলেন, “আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে সবার খাবার নিশ্চিত করতে না পারা, মানুষ পেটের তাগিদে বের হচ্ছে । তাই সরকারও একদিকে লকডাউন করছে, আবার অন্য দিকে গার্মেন্টসও খোলার সুযোগ দিচ্ছে। তাই দেশের খারাপ সিচুয়েশনের দায়ভার এসে পড়ছে লকডাউনের মধ্যেও কাজের কারণে বের হতে বাধ্য হওয়া এসব সাধারণ মানুষের উপর। এর দায়ভার আমাদের সিস্টেমের।”

এবিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সিনিয়র ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু ঢাকাটুডেকে বলেন, “করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এমন কঠিন সময়ে গার্মেন্টস খোলাটা শ্রমিকদের উপর একটা অমানবিকতার শামিল। আমরা বরাবরই এর বিপক্ষে অবস্থান করছি।

সরকার প্রতি নিয়ত বলছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে, গার্মেন্টসে এত গুলো মানুষ একসাথে কাজ করলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো সম্ভব হবে না। আবার সরকার একদিকে বলছে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে অপরদিকে খোলে দিচ্ছে গার্মেন্টস, শ্রমিকেরা চাকরিচ্যুত হবার ভয়ে অনেক কষ্টে ট্রাক বা অন্যান্য মালবাহী গাড়িতে করে দেশের নানান প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে কর্মে যোগ দিতে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির ব্যাপার সরকারের নজর দেওয়া দরকার।”

এব্যাপারে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি ঢাকাটুডেকে বলেন, “এভাবে এই সময়ে স্বাস্থ্য বিধিমালা না মেনে গণপরিবহন চলাটা করোনাভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকিটাকে আরো বৃদ্ধি করবে। করোনাভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধিমালা মেনে চলতে হবে।”

তবে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএসবি) আব্দুল ওয়ারিশ খান ঢাকাটুডেকে বলেন, “নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে, যারা নির্দেশনা না মেনে গণপরিবহন চালাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।”

উল্লেখ্য, গত ২৪ই এপ্রিল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণপরিবহন বন্ধের নির্দেশনা আগামী ৫ই এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *