চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে স্ত্রী এবং শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা

যে আর হৃদয়/ চাঁদপুর:ফরিদগঞ্জে পরকীয়া সন্দেহে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের ঘটনায় স্ত্রী তানজিনা আক্তার রিতুর পর শাশুড়ি পারভীন আক্তারেরও প্রাণ গেল। ছুরিকাঘাতে তাৎক্ষণিক স্ত্রী রিতুর মৃত্যু হলেও শাশুড়ি পারভীন দুদিন চিকিৎসাধীন থেকে শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে খুনের ঘটনায় ঘাতক জামাতা আল মামুন মোহনকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করা হলেও সে অস্বীকার করায় তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।এদিকে খুনের ঘটনায় রিতুর স্বামী আল মামুন মোহনকে প্রধান আসামী এবং তার ভাই ও বোনকে আসামী করে নিহত রিতুর চাচা লিয়াকত খান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাজী জাকারিয়া অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, লোমহর্ষক এই ঘটনার পর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ঘাতক মোহনের শাশুড়ি পারভীন আক্তারকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। ঢাকা নেয়ার পথে শুক্রবার ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করে। শুক্রবার সকালে তার লাশ থানায় আসার পর পুলিশ পোস্ট মর্টেমের জন্য চাঁদপুর প্রেরণ করেছে। এদিকে নিহত রিতুর পোস্ট মর্টেম শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে তার লাশ দাফন করা হয়।উল্লেখ্য, নৃশংস এই খুনের ঘটনা ১৩ মে বুধবার ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, আড়াই বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার শায়েস্তানগর গ্রামের মনতাজ মাস্টারের ছেলে আল মামুন মোহন ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া গ্রামের খাঁ বাড়ির সেলিম খানের মেয়ে তানজিনা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর সৌদি আরবে গেলেও গত দেড় বছর পূর্বে আল মামুন মোহন সৌদি আরব থেকে ফেরত আসে। ১৩ মে বুধবার বিকেলে সে তার নিজ বাড়ি রায়পুর থেকে শ্বশুর বাড়ি ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া আসে। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে স্ত্রী তানজিনা আক্তার রিতুর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিতুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এক পর্যায়ে মেয়ের আর্তচিৎকারে মা পারভীন আক্তার এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে মোহন। এ সময় মোহন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশেপাশের লোকজন ঘটনা টের পেয়ে তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর রিতুকে দ্রুত ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রিতুর মামী তাছলিমা বেগম জানান, সৌদি আরব থেকে মোহন চলে আসার পর বেকার অবস্থায় ছিল। বিয়ের সময় রিতুকে দেয়া স্বর্ণালঙ্কার সবকিছু বিক্রি করে ফেলে সে। এছাড়া বাড়িতে বসবাস করার জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রিতু স্বামীর বাড়িতে যেতে চাইতো না।

সে বাপের বাড়ি থেকেই পড়ালেখা করতো। এ নিয়ে মোহন স্ত্রীকে সন্দেহ করতো যে, সে পরকীয়ায় আসক্ত। এসব বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে রিতুকে হত্যা করে এবং তার মা ও ভাইকে আহত করে মোহন।এদিকে ঘাতক মোহন ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় জানিয়েছে তার স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত। তার প্রবাস থেকে পাঠানো সকল অর্থ তার স্ত্রী আত্মসাৎ করেছে। তাকে পাত্তা দিতো না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ছুরিকাঘাত করেছে।এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রকিব জানান, এ ব্যাপারে নিহত রিতুর চাচা লিয়াকত খান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ১৬-০৫-২০২০ ইং

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *