চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন-নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ

চট্টগ্রাম, (০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং): বাংলাদেশ সরকারের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,  চট্টগ্রাম বন্দর  হচ্ছে দেশের অর্থনীতির  লাইফলাইন । চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নেয়ার  পাশাপাশি কর্ণফুলী চ্যানেল সবসময় সচল রাখতে সর্বাত্নক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে সরকার। তিনি বলেন, শুধু মেরিটাইম সেক্টর  নয়, বাংলাদেশ এখন সর্বক্ষেত্রেই বহুদূর এগিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু জন্ম না নিলে স্বাধীন দেশের পরিচয় দিতে পারতাম না।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন উল্লেখ করে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ আরও বলেন, এ বন্দরকে সচল রাখার উদ্দেশ্যেই উপদেষ্টা কমিটির  এ সভা। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে বন্দরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার দেশকে মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের ১০০ কনটেইনার হ্যান্ডলিংকারী বন্দরের মধ্যে ৬ ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এখন আমাদের অবস্থান ৬৪তম। আগামী দু বছরের মধ্যে আমরা শীর্ষ ৫০ এর মধ্যে আসতে চাই।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নব গঠিত উপদেষ্টা কমিটির  প্রথম সভায় সভাপতির  স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কমিটির বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির  নানা উদ্যোগের বিষয় নিয়ে কমিটির  বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।  বে টার্মিনাল এর কাজ আমরা শীঘ্রই শুরু করতে পারবো এটা সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হচ্ছে। লালদিয়া এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে।  নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন,আন্তজার্তিক মেরিটাইম সংস্থা আইএমও সহ বিভিন্ন সংস্থা চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। আইএমও চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি দেশের স্বার্থের  ক্ষতি হবে এমন কোন খবর পরিবেশন না করার জন্য সংবাদ মাধ্যমসমূহের প্রতি অনুরোধ জানান।

উপদেষ্টা কমিটির সভায় তথ্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ  জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ  করে  বলেন, তারা দেশের অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। এ চট্টগ্রাম বন্দরও তাদের ষড়যন্ত্রের বাহিরে ছিল না। কিন্তু আমাদের নেত্রী বাঙালি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন শফিউল বারীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ। বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সর্বশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো  ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপিকে  সভাপতি করে ৬০ সদস্য বিশিষ্ট  নতুন কমিটি গঠন করা হয় গত ৩ আগস্ট।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, হুইপ  শামসুল হক চৌধুরী, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, চন্দনাইশ সংসদ সদস্য নজরুল  ইসলাম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, সহ-সভাপতি ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম আকতার হোসেন, বিজিএমইএর নাসির উদ্দিন চৌধুরী , বিকেএমইএর পরিচালক শওকত ওসমান,শিপার্স কাউন্সিলর অমিয় শঙ্কর বর্মন, বারভিডার সভাপতি আবদুল হক ও নুরুল হক সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ।##

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *