গায়ে পুলিশের পোশাক। হাতে চিকিৎসা সামগ্রী। মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ৭ পুলিশ সদস্য।


রাস্তার পাশে স্বজনহীন কাউকে শরীরে ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকতে দেখলেই ছুটে যান তারা। হাসপাতালেও যাদের ঠাঁই হয় না, সেই সব রোগীদের জন্য ব্যবস্থা করেন চিকিৎসা, খাবার আর পোশাকের। নয় বছর ধরে পরিচয় গো’পন রেখে এ সেবা দিয়ে আসছিলেন পু’লিশের সাত সদস্য। গায়ে পুলিশের পোশাক। হাতে চিকিৎসা সামগ্রী। মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ৭ পুলিশ সদস্য।


শেষ পর্যন্ত নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে তারা জানালেন এই মহৎ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা। জানালেন অসহায় মানুষের পাশে থাকার আকুতি।এতদিন নিজেদের উদ্যোগে এই সেবা দিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রামের দামপাড়া বিভাগীয় পু’লিশ হাসপাতালের সাত কনস্টেবল মো. শওকত হোসেন, মো. হান্নান, মো. মাঈনুদ্দীন, মো. মাহবুবুল আলম, মো, ইয়াছিন আরাফাত, মো. রবিউল হোসেন, মো. এম’রান হোসেন।মূলত কনস্টেবল শওকতের উদ্যোগেই ২০১১ সালে এ কাজে শামিল হয়েছিলেন তারা সাতজন। পরিচয় গো’পন করে নিজেদের টাকায় তারা এ সেবা দিতেন।বিষয়টি নগর পু’লিশের কর্মক’র্তাদেরও নজরে ছিল না।সবশেষ শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান সাত সদস্যের এই টিমকে ‘মানবিক পুলিশ ইউনিট’ হিসেবে দাপ্তরিক স্বীকৃতি দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়,পথে ঘাটের অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে পুলিশ কমিশনার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই টিমকে এক লাখ টাকা অনুদানও দিয়েছেন।

এক অসুস্থ আক্রান্ত রোগীর পাশে শওকাত ও তার টিম


এদের টিম লিডার শওকত হোসেন। তারা নিজের ডিউটি টাইম শেষ করে বেড়িয়ে পরেন রাস্তায় বা হাসপাতালে। খুঁজে খুঁজে অসহায়, দুস্থ, অসুস্থ মানুষদের সেবা, চিকিৎসা ও খাবার দেন। নিজেদের বেতনের টাকা থেকে অর্থ সাশ্রয় করে তারা গত আট বছর ধরে মানুষের সেবা করে আসছেন।


এ বিষয়ে শওকত স্বাধীন কন্ঠকে বলেন-পুলিশের কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক কাজে এগিয়ে আসা আমি চেষ্টা করেছি অসহায় দরিদ্রদের সাথে থেকে তাদের সাহায্য সহায়তা করতে অনেক মানুষ চিকিৎসা সেবা পায় না এ সেবা যদি দিতে পারি তাহলে আমরা পুলিশ হিসেবে গর্বিত বোধ করব।তাই চাকরির পাশাপাশি মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার নিয়ে এ কাজে নেমেছে এ কাজ করে বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিব ইনশাল্লাহ।

২০০৫ সালে কনস্টেবল হিসেবে পু’লিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পাঁচ বছর পর ঢাকা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে যান শওকত। নার্সিং ও প্যারামেডিক ডিপ্লোমাধারী হওয়ায় পদায়ন হয় দামপাড়া পু’লিশ হাসপাতালে।

এক অসুস্থ রোগীকে খাবার দিচ্ছে শওকাত।

শওকত আরো বলেন বলেন, “তখন আমা’র কাজ ছিল গুরুতর অ’সুস্থ পু’লিশ সদস্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চ’মেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়, এক পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে রাস্তার পাশে এক মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে দেখি। তার শরীরের একাংশে পচনে পোকা ধরে গেছে।”সেই প্রতিবন্ধীর ক’ষ্ট স্প’র্শ করে শওকতকে। তাকে নিয়ে ভর্তি করে দেন চট্টগ্রাম মেডিকেলের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে। কিন্তু পরদিন গিয়ে দেখেন, হাসপাতালে রোগী নেই।“তাকে না পেয়ে ফিরে যাই সেই রাস্তায়, যেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। এরকম তিনজন রোগীকে আমি হাসপাতালে ভর্তি করেও পরে আবার সড়কের পাশে খুঁজে পাই। তখন ঠিক করি নিজেই চিকিৎসা করব।”কিন্তু শওকতের সেই চেষ্টা সহ’জ ছিল না। যাদের সাহায্য করতে ছুটে যেতেন, তাদের ধীরে ধীরে মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখতে হয়েছে তাকে।

অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে তারা।

চট্টগ্রামের পু’লিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান স্বাধীন কন্ঠকে বলেন, “তারা সবার অগচো’রে যে মানবিক কাজটি করে যাচ্ছে, সেটি শুনে আমি অ’ভিভূত হয়েছি। এরকম আরও অনেকে কাজ করছে এবং করেছে। এসব কাজগুলোকে সমন্বিতভাবে করার জন্য ‘মানবিক পু’লিশ ইউনিট’ গঠন করছি, যাতে আম’রাও তাদের সুপারভিশন করতে পারি।”

বিশেষ প্রতিনিধি- মোঃ রবিউল হোসেন। স্বাধীন কন্ঠ।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *