ক্রসফায়ারে ঘটনা জানেনই না স্থানীয় সাংসদ।

পঞ্চাশ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে, না পাওয়ায় প্রবাসী জাফরকে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে হত্যার অভিযোগে উঠেছে চকরিয়ার এই ওসির বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে চকরিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে যুবক নিহতের ঘটনা জানতেন না স্থানীয় সাংসদ । এমনকি এ ঘটনার ২১দিন পার হলেও এ ব্যাপারে তাকে অবহিত করেনি পটিয়া থানা পুলিশ।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম ১২ আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী জানান, কচুয়াইয়ের প্রবাসী যুবক মো. জাফরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে চকরিয়ায় ক্রস ফায়ার দেয়ার খবরটি তিনি জানতেন না। ঘটনাটি শোনার পর তিনি পটিয়া থানার ওসিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ওসি জানায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান পটিয়া থানার ওসিকে বলেছেন ছেলেটির পরিবার ভালো না। আর ছেলের আদি বাড়ি আনোয়ারায়।

নিহত মোহাম্মদ জাফর পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কথামোজা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।মোহাম্মদ জাফরের মামা আহমদ নবী বাদী হয়ে রোববার পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।

এ মামলায় চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) এই ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১২ মার্চ ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন জাফর। ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে তার পটিয়ার বাসভবন থেকে পুলিশ সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাছ থেকে ‘৫০ লাখ টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে হত্যা করে’।

জাফরের পরিবারের লোকজন জানান, গত ২৯ জুলাই ভোর ৬টার দিকে পুলিশের পোশাকধারী দুই জন এবং সাদা পোশাকের আরও বেশ কয়েকজন তাদের বাড়িতে উপস্থিত হন। এটা কথিত বন্দুকযুদ্ধের দুদিন আগের ঘটনা। জাফর দরজা খুলে দিলে তারা পটিয়া থানার সদস্য হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন।

ঈদুল আজহার আগের দিন, ৩১ জুলাই ২০২০, ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী জাফর। স্থানীয়রা জোর দিয়ে তাকে নির্দোষ দাবি করলেও পুলিশের ভাষ্য মতে তিনি ছিলেন ইয়াবা চোরাকারবারি।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *