এবার লকডাউন এ কক্সবাজার

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অবশেষে কক্সবাজার জেলাকে লকডডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন এ ঘোষণা দেন।

এ লকডাউনের কারণে এখন থেকে কেউ কক্সবাজারে প্রবেশ ও কক্সবাজার থেকে বের হতে পারবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউনের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে ঘোষণায় বলা হয়।

তবে চিকিৎসা ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবা এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ আদেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুমকি দেয়া হয়েছে। জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন ব্যতীত সব ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করতে আরো কঠোর অবস্থানে নেমেছে সেনাবাহিনী।

কক্সবাজার শহরের বড়বাজার, বাজারঘাটা, ফিশারীঘাট, বিমানবন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সেনাটহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজারের প্রধান প্রধান প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

পাশাপাশি অন্যান্য উপজেলাতেও সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী জানান, বুধবার থেকে পরবর্তী ঘোষণা দেয়া পর্যন্ত এমন নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের আর্থিক জরিমানা এমনকি প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে।

তিনি জানান, একই রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়। সেনাবাহিনী এবং পুলিশের অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে সকল ধরনের যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

অতি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও ত্রাণ সংক্রান্ত গাড়ি ব্যতীত কোনো ধরনের গাড়ি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গমনাগমন করতে দেয়া হচ্ছে না।

তবে জরুরি কাজে আরআরআরসি অফিসের স্টিকার বা লিখিত অনুমোদন নিয়ে দেশী-বিদেশী এনজিও বা ব্যক্তিবর্গের ক্যাম্পে প্রবেশের সুযোগ আছে।

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, করোনা সতর্কতায় বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় ৫১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে এবং ২৩ জনকে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আর মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৫২ জন।

তিনি জানান, ১ মার্চ থেকে কক্সবাজার জেলায় বিদেশ প্রত্যাগত ২০০২ জনের মধ্য থেকে ১১২১ জনের ঠিকানা ও অবস্থান ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। করোনাভাইরাসের চিকিৎসা জেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৬২ বেড এবং ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে ১০৬টিসহ মোট ২৬৮টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *