উগ্রবাদী শক্তির থাবায় পৃথিবী!

সরওয়ার আলম- বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দুটি বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা ও এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয় ফলে স্নায়ুযুদ্ধ ও অন্যান্য টানাপোড়ন থাকলেও প্রায় অর্ধ শতাব্দী বিশ্বব্যাপী শান্তি বিরাজমান ছিলো। এই সময়টাতেই মূলত পৃথিবীতে ব্যাপক উন্নতি ঘটে। শিল্প, সংস্কৃতি, আধুনিকতা, মানবতা সহ সর্বক্ষেত্রে উন্নতি ঘটেছে। বৈশ্বিক রাজনীতিতে ও স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান ছিলো। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট বুঝতে পারা যায় বিগত কয়েক শতাব্দীর সবচেয়ে ভালো সময় ছিলো বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ। এ ধারা একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে কয়েকবছর ঠিকে ছিলো মাত্র। বিগত দশকের শেষ বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী মারাত্মক ভাবেই উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে যা এখন গুনানুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বরাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উগ্রপন্থী ও  চরমপন্থীদের ব্যাপক আবির্ভাব ঘটেছে সেই সাথে এরা বিশ্বরাজনীতিকে মোটামুটি নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিয়েছে। এটা অত্যন্ত আশংকাজনক। একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর পর বিশ্বরাজনীতির ব্যাপক পরিবর্তন হয় কোন না কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই পরিবর্তন হতে পারে ভালো অথবা খারাপ। বিংশ শতাব্দীর  পরিবর্তন ছিলো ভালো। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এই পরিবর্তনের ধারা মারাত্মকভাবে ধ্বংসাত্মক হতে চলেছে অন্তত এটা এখন পর্যন্ত চলমান ঘটনাগুলো প্রমাণ করে। বিশ্বরাজনীতির যেকোন গুরুত্বপূর্ণ দিক কিংবা নিয়ামক সমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বেশিরভাগ প্রায় সবগুলোই মোটামুটি উগ্র ও চরমপন্থীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। ধীরে ধীরে এই ধারা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের প্রতিটি আনাচে কানাচে। আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ভারত ও ইউরোপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই তা বুঝতে পারা যায়। মোড়ল জাতের রাষ্ট্র সমূহের  উগ্রবাদের প্রভাব স্বরুপ ছোট ছোট দেশগুলোতেও উগ্রবাদীরা জেঁকে বসছে।

ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসার ভয়াবহ দাবানল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে চলছে ভার্চুয়াল যুদ্ধ। একে অন্যেকে ছোট করা, নানা ধরনের কুৎসিত মন্তব্য করা থেকে হুমকি কোনটাই বাদ নেই। উগ্রপন্থা ছড়াচ্ছে ভয়াবহ গতিতে। বিশ্বব্যাপি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ শুধুমাত্র একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। এমনটি চলতে থাকলে অচিরেই পৃথিবী যুদ্ধ বিগ্রহে ধ্বংসস্তুপে পরিনত হবে।আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বব্যাপী রাজনীতিবিদগন। স্বল্পকালীন  ক্ষমতার লোভে তারা নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘকালীন ধ্বংস ডেকে আনছেন। উগ্রপন্থার এ উত্থান এখনিই বন্ধ করতে না পারলে এর ভয়াবহ পরিনতি থেকে রেহাই পাবেনা কেউ না ভালো মানুষ না খারাপ। মজার ব্যাপার হচ্ছে খারাপ মানুষের সংখ্যা খুবই কম কিন্তু তারা এমনভাবে নিজেদের চালায় মনে হয় পুরো সমাজ কিংবা পুরো সিস্টেমই খারাপ। একটু সহজভাবে  নিজেদের  আশেপাশে দেখলেই বুঝা যায়। কিন্তু ভালো মানুষদের(!) আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা, গাঁ বাঁচিয়ে চলা, অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে অন্যায়কারীরা ভীতি ছড়িয়ে সুযোগ নেয়। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সকলেই স্বভাব পাল্টাতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার চেয়েও ভয়ংকর। এরপরও যদি নিজেদের পরিবর্তন করে উগ্রবাদীদের থামাতে না পারি তাহলে নিঃসন্দেহে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য।

লেখকঃ সরওয়ার আলম।

Categories:মতামত
Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *