আসুন দলের প্রতি, আদর্শের প্রতি সম্মান দেখাই। ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করি

ব্যক্তিগত কাজে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে আসলাম ৩ মার্চ তারিখ। মোহরার সর্বস্তরের মানুষের আশা-প্রত্যাশা ছিল যে এইবার ২০২০ চসিক নির্বাচনে আমি কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করব। আমিও সেইভাবে মোহরার সাধারন মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রতি সম্মান জানাতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে আল্লাহ্ পাক আমাকে এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন করে দেন যার কারনে আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হলাম। তাছাড়া বড় ভাইয়ের মেয়র পদে মনোনয়ন অনেকটা শিউর হয়েছিলাম। তাই নিজে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন চাই নাই। দুই ভাই এক সাথে দুই পদে কেমন করে দলীয় মনোনয়ন চাইব! এটা আমার বিবেককে বাঁধা দিয়েছিল। বড় ভাইয়ের মনোনয়ন না হওয়াতে কিছুটা ভেঙে পরেছিলাম। তবে নেত্রীর সিদ্ধান্ত সঠিক মনে করে নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক পথ চলাকে ধরে রাখতে ঘুরে দাঁড়ালাম। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিলাম আমার কোন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে নিয়ে আগাতে হবে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক ভাইকে অনুরোধ করলাম তিনি অপরাগতা প্রকাশ করলে আরেক বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান যুবলীগ নেতা কাজী নুরুল আমিন মামুনকে নিয়ে আগাতে হল। আমার বড় ভাইয়ের মনোনয়নের দৌঁড় ঝাপের সময় যেই সমস্থ পথ ও কৌশলে হেটেছিলাম সেই পথ ও কৌশলের কিছু কিছু কাজে লাগাতে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলাম।কাউন্সিলর পদে মোহরা ৫ নং ওয়ার্ড থেকে কাজী মামুন, পাঁচলাইশ ৩ নং ওয়ার্ড থেকে জি এস কফিল উদ্দিন, চান্দগাঁও ৪ নং ওয়ার্ড থেকে লিয়াকত আলী ও ২০ নং দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড থেকে রফিকুল আলম বাপ্পীকে নিয়ে খুব আশাবাদী হয়ে আগাতে লাগলাম। রাজনৈতিক বিভিন্ন সমীকরনে আর আমার রাজনৈতিক অপরিপক্ষতার কারনে সবার জন্য সফল হতে না পারলেও কাজী মামুন দলীয় মনোনয়ন পাওয়াতে আল্লাহ পাকের কাছে শুকরিয়া ও সেই সমস্ত নেতাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই।
সে যেইভাবে হোক ভাগ্যবান ব্যক্তি তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা এম রেজাউল করিম ভাই মেয়র নির্বাচনের জন্য, মোহরা ৫ নং ওয়ার্ডে কাজী মামুন কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য এবং প্রয়াত নেতা আমাদের রাজনৈতিক গুরু মরহুম সেকান্দর হায়াত খানের সহধর্মিনী জুবাইরা নার্গিস খান সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর নৈতিক ও আদর্শিক দায়িত্ব দলের মনোনীত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করে আনার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করা কিন্তু কিছু কিছু নেতারা নানান কথা ছড়াচ্ছেন। মনে রাখবেন আমাদেরও কষ্ট আছে। আমরা কি ঘরে বসে থাকতে পেরেছি নাকি বিরোধীতা করতে পেরেছি? ছালাম পরিবার ও ছালাম পরিবারের অনুসারীদের সুকৌশলে গত মেয়র নির্বাচন, মরহুম বাদল সাহেবের নির্বাচন ও সদ্য সমাপ্ত উপ-নির্বাচনে দূরে রেখেছিলেন। কই আমরাতো পারি নাই ঘরে বসে থাকতে! পারি নাই বিরোধীতা করতে! নিজ উদ্যোগে দলের মনোনীত ব্যাক্তির জন্য কাজ করে প্রতিবারই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করেছি। অনেকেই চেয়েছিলেন এবং পরিকল্পনা নিয়েছিলেন মোহরাতে নৌকার প্রার্থীকে হারাতে পারলে ছালাম সাহেবকে নেত্রীর আস্থা, বিশ্বাস ও স্নেহ থেকে সরানো যাবে। আল্লাহপাক সব সময় আমাদের সহায় হয়ে থাকেন। ইজ্জত, সম্মান সব কিছু মহান আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। কেউ চাইলেও পারবেন না সেখান থেকে টেনে নামাতে। মনকে বড় করুন। দলকে ভালবাসুন। দলের নাম পদপদবী বিক্রি করে চাঁদাবাজি করে অনেকদিন চলেছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে ঠিক হয়ে যান।আসুন দলের প্রতি, আদর্শের প্রতি সম্মান দেখাই। ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করি।

যুব নেতা জনাব সৈয়দ নজরুুল ইসলামের ফেইসবুক পেইজ থেকে। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *