আমরা বাংলাদেশী’- র চার মাস ব্যাপী কভিড সহায়তা কর্মসূচি

অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘আমরা বাংলাদেশি’  আবারো   মানবতার  কল্যাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন দেশে এবং বিদেশে। তারা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাহায্যে ৪ মাসের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হল বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাগুলোতে চাল ও ফুড-প্যাক  বিতরণ করা এবং  দুর্গম এলাকা ও হাঁসপাতালে করনা আক্রান্ত রুগীদের কাছে খাবার পৌঁছানো। 

মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ছেড়ে সুদূর প্রবাসে চলে আসলেও তারা ভুলে যায়নি  নিজের  দেশের মায়া, মমতা ও ভালবাসার বন্ধন। সংগঠনের অন্যতম সদস্য এবং কভিড কর্মসূচির কনভেনর, রাশেদ খান বলেন, “মহামারীর এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সবার কর্তব্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্বশীলতা থেকেই এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি”। বিগত ১০ বছর ধরে এই সংগঠনটি  সিডনিতে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলছে।

বর্তমানে সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।  যেখানে সাহায্য পৌঁছানোটা খুব কঠিন সেইসকল দুর্গম এলাকায় তারা ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে মানুষের দরজায়। 

সংগঠনের সদস্য, মাসুদ খলিল জানান, গতমাসে তারা কুমিল্লা  ও টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৬৪ টি  পরিবারের মাঝে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুরবানির মাংস বিতরণ করেন এবং ২০০ টি পরিবারের মধ্যে  ১০ কেজি করে চাল  বিতরণ করেন।  টাঙ্গাইল এবং কুমিল্লার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুটি স্থানীয় সংগঠনের সহযোগিতায় তারা প্রথম ধাপে এই কাজগুলো অত্যন্ত সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করেছেন। এবং আগামী ১০ই অগস্টের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় মাসের সহযোগিতা পৌঁছে দেবার জন্য কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। 

এক্ষেত্রে বাংলাদেশে যে দুটো সংগঠন কাজ করছে তারাও কোন প্রকার পারিশ্রমিক না নিয়ে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এসেছে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে একদল তরুণ যুবক যাদের স্বপ্ন একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেয়া। তাদের এ দক্ষতার সংগে বিতরণ  কার্যক্রম পরিচালনার কারণে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেয়া সহযোগিতা গুলো অত্যন্ত সঠিকভাবে সঠিক লোকদের  হাতে পৌঁছে যাচ্ছে নির্দিষ্ট  সময়ে।    

সংগঠনের অপর সদস্য, রেজা করিম জানান, অগস্ট মাসে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রমে প্রায় ৫০০ পরিবারের কাছে  ফুড প্যাক  বিতরণ এবং হাঁসপাতালে কভিড আক্রান্ত রুগীদের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছানোর পরিকল্পনা তারা হাতে নিয়েছেন। এ মহতী কাজে  অংশগ্রহণ করার জন্য সংগঠনটি  অস্ট্রেলিয়াতে যারা প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন তাদেরকে অংশ গ্রহণ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সকলের দানকৃত অর্থ সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংগঠনটি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।  

কুমিল্লা এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও  বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় তাদের কার্যক্রম ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  এই লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশী তাদের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে একটি ডোনেশনের পেইজ ওপেন করেছেন । আপনারা যারা আগ্রহী তারা ওই পেইজের মাধ্যমে ডোনেট করতে পারেন অথবা সরাসরি ফোন করে বা অ্যাকাউন্ট নাম্বারে ও আপনার ডোনেশনের টাকা জমা দিতে পারেন।  

জনাব রাশেদ খান মনে করেন, প্রতিটা কাজের একটি উপযুক্ত সময় আছে আর এখন বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময় হল মানবতার হাতকে সম্প্রসারিত করা । তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই প্রত্যেকেই তাদের আয়ের যতটুকু সম্ভব, সেটা ৫ পার্সেন্ট হতে পারে ১০ পার্সেন্ট হতে পারে ২০ পার্সেন্ট হতে পারে বা তারও বেশি অথবা যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু পরিমাণ টাকা আমরা যেন করোনা আক্রান্ত এবং করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি সেই চেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি”।    

বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ তারা তাদের প্রতিদিনের কাজ করতে পারছে না বলে খাবার তুলতে পারছে না ঘরে। আরেকটা শ্রেণি যারা ব্যবসা চাকরির সাথে জড়িত, কাজ ও বেতন বন্ধ থাকার কারণে তারা নিজেদের সংসার এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ কুলিয়ে উঠতে পারছেনা।  আবার কখনো কারো চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার হয়ে গেছেন সহায়-সম্বলহীন।   

সংগঠনের সদস্য, জনাব মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সবার কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় এটা। আসুন আমরা আমাদের সময় ও সুযোগকে কাজে লাগাই”।  তিনি আল-কোরানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘যদি তোমরা দান প্রকাশ্যে করো তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবীদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য শ্রেয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো আল্লাহ তা অবগত আছেন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৭১)। 

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *