অস্ট্রেলিয়া বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের মিটিংএ তুমুল হট্টগোল,হৈচৈ , সিদ্ধান্তহীনতা

স্বাধীনকন্ঠ রিপোর্ট…

অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সব গ্রুপের একটি মিটিংএ তুমুল হট্টগোল ও বাদানুবাদের পরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়েছে । গতকাল স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বসেছিলেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ন নেতৃবৃন্দ। কিন্তু তীব্র বাদানুবাদ ও বিভেদের কারনে সেই মিটিং ভেস্তে গেছে । এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় বিএনপির মধ্যকার বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় সরকারী দলের সমর্থক আওয়ামী লীগ যখন বিভক্তি বাদ দিয়ে ঐক্যের চেষ্টা করছে, একই সময়ে তাদের প্রতিপক্ষ বিএনপির এই বিভক্তি আরও স্পষ্ট হলো। দলটির কোনো অনুমোদিত কমিটি এখানে না থকলেও বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেকে নিজেদের অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কমিটি বলে দাবি করে আসছেন। খবর নিয়ে জানা যায়, অন্তত ৪ টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির নামে। গতকাল সোমবার বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব মিটিংএর একটি পূর্ন অডিও টেপ স্বাধীনকন্ঠের কাছে এসে পৌঁছেছে। সেটা বিশ্লেষন করে দেখা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সে হিসেবে এশিয়া প্যাসিফিক এলাকার জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়।

সেই কমিটির প্রধান করা হয় অস্ট্রেলিয়া বিএনপির এক অংশের নেতা সোহেল ইকবাল মাহমুদকে। বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য বিবাদমান গ্রুপগুলির অসন্তোষ তীব্র হতে থাকে। তারা এশিয়া প্যাসিফিক কমিটির বাইরে গিয়ে একটি আলাদা কমিটি করার জন্য চেষ্টা করেন। সেখানে সোহেল ইকবালকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে সমন্বয়কারী করার চেষ্টা করা হয়। এদিকে আরেক অংশের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী না গিয়ে নিজেদের উদ্যোগে তড়িঘড়ি করে অস্ট্রেলিয়ার এক সংসদ সদস্যকে দিয়ে সুর্বণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদ্ভোধন করার অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলটির চেয়ারম্যান জেলের বাইরে থাকলেও তিনি সরকারের দেয়া শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ। রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে পারেন না। এদিকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন স্বেচ্ছা নির্বাসনে লন্ডনে। এই অবস্থায় দলটির প্রবাসী কমিটিগুলো যেভাবে শক্তিশালী ও একাত্ম হয়ে ভূমিকা রাখার কথা সেভাবে এগিয়ে যেতে পারছে না। নিজেদের মধ্যে পদ ও পদবী নিয়ে বিরোধের জেরে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায় তারা। প্রবাসে দলটির প্রচুর সমর্থক থাকলেও খুব কম সংখ্যক সমর্থক সক্রিয় রাজনীতি করেন। বিশেষ করে দলাদলি ও বিভক্তি তাদের রাজনীতিবিমুখ করেছে। মার্চ মাস থেকে বিএনপির স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী শুরু করার কথা থাকলেও এখনও কমিটি করা নিয়ে যে ঝগড়া সেটারই মিমাংসা অনেক দূর বলে ধারনা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাদের অস্তিত্বের জানান দিতে চেয়েছিলো দেশে ও বিদেশে।

নতুন করে কিছু সাংগঠনিক কর্মকান্ড করে তাদের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার এই সুযোগটি অস্ট্রেলিয়ায় দলীয় কোন্দলের কারনে এক রকম ভেস্তে যেতে বসেছে। অডিও টেপ বিশ্লেষন করে দেখা যায়, মিটিংএ নেতাদের মারমুখী আচরন ও বাদানুবাদের ফলে উল্টো সমস্যার তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনীতি করে আসা সিনিয়র নেতা মনিরুল হক জর্জ। তিনি বর্তমানে এক অংশের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মিটিংয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সাথে কথা হয় স্বাধীনকন্ঠের। তিনি বলেন, ”আমার বিরুদ্ধে কোনো ইন্ধন দেয়ার অভিযোগ কেউ করে থাকলে সেটা সত্য না। আমি কিছুদিন আগে সোহেল ইকবালের কাছে এক ভোটে হেরে গিয়ে মেনে নিয়েছি। এখন যদি মেজরিটি তাকে না চায়, তার থাকার অধিকার নাই। এইটা বলতে চাই, আমি একটি নিরপেক্ষ জায়গা থেকে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, মিটিংএর শেষের দিকে মুন্নি চৌধুরী মেধা, দেলোয়ার হোসেন ও মোসলেউদ্দিন আরিফের পার্সোনার দ্বন্দের কারনে কিছুটা শোরগোল হয়। সেগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। সেখানে আমার ইন্ধন দেয়ার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু যিনি মিটিং ডাকলেন সেই সোহেল ইকবাল কিভাবে মিটিং ত্যাগ করে চলে যান ? মনিরুল হক বলেন, আট জনের তিনজন মিটিং থেকে ওয়াকআউট করলে আমরা বাকি ৫ জন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ” কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি তা প্রকাশ করতে অসম্মতি জানান। বিষয়টি নিয়ে মুন্নি চৌধুরী মেধা বলেন,” সেখানে কেউ কেউ ইন্ধন দিয়েছে। আমি চলে এসেছি সেখান থেকে । মিটিংয়ে ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করে সহিংস আচরন করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত নেয়ার বদলে পার্সোনাল অভিযোগ করা হয়। ” কথা হয়েছে কেন্দ্র থেকে এই বিষয়ে যে কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেই কমিটির সমন্বয়কারী সোহেল ইকবাল মাহমুদ এর সাথে। তিনি স্বাধীনকন্ঠকে জানান, ” মনিরুল হক জজ সহযোগীতা করেননি। তিনি আমার ফোন রিসিভ করেননি। তার কাছে কিছু নাম চাওয়া হলে সেগুলি সরবরাহ করেননি। পরে হাছান ভাইয়ের কাছ থেকে আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে কিছু নাম সংগ্রহ করি।”

এক প্রশ্নের জবাবে সোহেল ইকবাল বলেন, ‘ অস্ট্রেলিয়ায় মনিরুল হক জজ নিজেকে অজেয় মনে করেন। তিনি মাত্র মাসখানেক আগে আমার সাথে ভোটাভুটিতে হেরে গিয়ে সেটা মেনে নিতে পারেননি। আরেক প্রার্থী রাশেদ এর সাথে এক হয়ে , দুই পরাজিত শক্তি মিলে সাধারন একটি মিটিংয়ে তারা অনাস্থা আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু একটি অনাস্থা আনতে গেলে সেই উদ্দেশ্যে দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি মিলে মিটিং কল করতে হয়। এটা ছিল সামনে কাজগুলো কিভাবে করবো তার মিটিং । তারা সংগঠনের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন , বিএনপির কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেয়া আছে সেই হিসেবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবো।” সোহেল ইকবাল বলেন, ‘ মুল দল যেখানে একটি বিষয়ে কমিটি করে দিয়েছে সেখানে আলাদা হয়ে রাশেদুল হকের গ্রুপ একই নামে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছে। এটা আন এথিকাল( অনৈতিক) । ” বিষয়টি নিয়ে কথা হয় অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সাথে। তিনি স্বাধীনকন্ঠকে জানান, সেই মিটিংএ তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত। উল্লেখ্য , অডিও টেপের বিষয়টি স্বাধীন কন্ঠ সকলের কাছে তুলে ধরলেও কেউ সেটার অস্তিত্ব অস্বীকার করেনি। ফলে , সোমবারের ছোট আলোচনা সভাটিতে যেতুমুল হট্টগোল ও হৈচৈ হয়েছে সেটা নিশ্চিত করা গেছে । বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আরেক অংশের নেতা রাশেদুল হক, যিনি ওই মিটিংএ ছিলেন , তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি হয়ে প্রশ্ন শোনেন । তার পরে এখনই কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। তিনি সন্ধ্যার পরে কল করার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ফলে তার কমেন্ট যুক্ত করা যায়নি।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *