অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২১ “ফাগুন হাওয়া ইনক অস্ট্রেলিয়া “ এর আয়োজনে বসন্ত মেলা অনুষ্টিত

“ফাগুন হাওয়া ইনক অস্টেলিয়া”
সম্পূর্ন নারীদের দ্বারা পরিচালিত একটি সংগঠন। এই সংগঠনটির আয়জিত বসন্ত মেলা ২০১৪ সাল থেকে ছোট পরিসরে আরম্ভ হলেও ২০১৮ সালে প্রথম বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়।
২০১৯ সাল এ ৯৫০ জনের ও বেশি অংশগ্রহণকারী কে নিয়ে আয়জন করা হয় মিন্টু রনমোর হলে।তার পর ‘ফাগুন হাওয়া’ মেলার জন্য সাড়া পায় অগণিত মানুষ থেকে। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বড় পরিসরে মেলা করার জন্য ওয়ালি পার্কে। ফাগুন হাওয়াকে সবসময় আমাদের বাঙালী কমিউনিটির পরিচিত মুখ মোহাম্মদ শাহে জামান টিটু সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু ২০১৯ সালে যখন উনি ফাগুনের বসন্ত মেলা পরিদর্শন করেন তখন উনি উপলব্ধি করতে পারেন যে পরিকল্পিত ভাবে এই সংগঠনের পাশে দাঁড়ালে একটা সফল সাংস্কৃতিক অনুষ্টান সিডনিতে করা সম্ভব। তাই তিনি ২০২০ থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছেন,পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ও সহযোগিতা করার আহব্বান জানান।

সব প্রস্তুতি থাকা সত্বেও শেষসময় এসে কভিড-১৯ এর জন্য বিলম্বিত করা হয় অস্ট্রাবিলট ফাগুন মেলা-২০২০।
এই বছরে এখনো সরকারি নিষেধাজ্ঞার জন্য সব নিয়ম নীতি মেনে ৫০ জন “ফাগুন হাওয়া’র ” কার্যক্রম এর সাথে যারা জড়িত তারা সবাই মিলে ফাগুনের কেক কাটে।
বৃষ্টি কে উপেক্ষা করে রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে মেয়েরা সাজে হলুদে আর সবুজে।ছেলেরা পরে পাঞ্জাবী আর নতুন প্রজন্মের বাচ্চারা পরিচিত হয় আমাদের দেশের বসন্ত
ঋতুর সাথে।
বসন্তের রঙের সাথে মিল রেখে “ফাগুন হাওয়া ” তাদের থিম কালার হিসেবে সমস্ত সাজসজ্জায় এবং প্রতিটা অংশ জুড়েই সবুজ হলুদের রং এ রাঙানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশের এতিহ্য ধরে রেখে বিভিন্ন খাবার সেখানে পরিবেশন করা হয়। খাবার পরিবেশন আকর্ষনীয় করে তুলতে প্রতিটি খাবার দেশীয় কলাপাতা দিয়ে বেষ্টিত ছিল।দেশীয় পিঠা, পুলি মিষ্টি হরেক রকম খাবারে ভরপুর ছিল।রকডেল ফুসকা হাউজের খাবারের মধ্যে মোগলাই ছিল অন্যতম।চারিদিকে ছিল রং বেরং এর ফেস্টুন আর বাঙালি সংস্কৃতির ছোয়া।

ফেস্টুন তৈরিতে আর রং তুলিতে অনুষ্ঠান টা আরও সৌন্দর্য মন্ডিত করার জন্য সহযোগিতা করেছেন হেমা রেজওয়ান, ফারিয়া প্রমি, তামমি পারভেজ, বেলায়েত এবং জাহিদ হোসেন, মোমিনুল মোমিন, আবদুস সামাদ, নিতু ও এনামুল।
রকডেলের একটা ব্যক্তিগত বাগানে সবুজের প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠান টি উদযাপন হয়।সবাইকে এর রঙিন উৎসবে মাতিয়ে রেখেছিল পুরোটা সময়।কমিউনিটির পরিচিত সম্মানিত মুখ সেখানে ছিল

———–George Zakhia, Councillor, Bankstown ward, The city of Canterbury-BANKSTOWN

———–Reena Jethi, Deputy Mayor, Hill Shire Council,
উনারা উনাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এত রঙিন কোন অনুষ্ঠানে তারা এর আগে যান নি! “ফাগুন হাওয়া” র জন্য শুভ কামনা করেন।অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফাগুন হাওয়া সভাপতি তিশা তানিয়া “ফাগুন হাওয়া” র ভক্তদের উদ্দেশ্য বলেন, কভিড-১৯ এর কারনে সবাইকে অনুষ্টানে আমন্ত্রণ করতে পারিনি বলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।উনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের পরবর্তী অনুষ্টানে সবাইকে একসাথে করার চেষ্টা করব। তাছাড়া ফাগুন হাওয়ার সম্পাদিকা সাজেদা আক্তার সানজিদা জানান, আমরা কমউনিটির সবাই কে নিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিবছর বসন্ত মেলা আয়োজন করার আশা করছি এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশি এতিহ্যের সাথে পরিচিত করা আমাদের অন্যতম একটা লক্ষ্য।
অনুষ্টানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধরে রেখে ফাগুন হাওয়া’র অবদান সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন এবং উপস্তিত ছিলেন সম্মানিত

মোহাম্মদ জামান টিটু (সাবেক কাউন্সিলর ,ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন)
ফারুক খান ( বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব অস্ট্রেলিয়া সাবেক সভাপতি ফাগুন হাওয়ার অন্যতম শুভান্যধায়ী)
সিরাজুল হক( সভাপতি অস্টেলিয়া আওয়ামীলিগ)
মোবারক হোসেন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী
মনিরুল হক জর্জ ( সাবেক সভাপতি বি এন পি অস্টেলিয়া)
সাংবাদিক রহমতউল্লাহ
আকিদুল ইসলাম(সাংস্কৃতিক মনা)
নাজমুল হক ফাগুন হাওয়ার সমর্থক
পি এস চুন্নু,মাহবুবুর রহমান, মডেল কন্যা সালমিন সুলতানা তানহা
উপস্তিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কমিউনিটি কাজে সবসময় অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন জনাব বাহলুল আলম টি এম এ্যলাইএনস এর কর্নধর উনি বক্তৃতায় বলেন এরকমই গঠনমূলক সংগঠনের পাশে সবসময় ছিলেন এবং থাকবেন।

ফাগুন হাওয়াকে সবসময় সমর্থন করে আসছে নানান বিষয়ে -এলান খান , উর্মি , হেমা রেজাওয়ান, নুসরাত তানজিনা, প্রমি, মাসুদ পারভেজ,রানা, জাহিদ হোসেন, সুকান্ত, এনামুল, সুমন, ছবি, সম্পা, পূরবী, মিলি, সুমি আজাদ, সীমা, শারমিন, আইরিন,অনুপমা,ফারজানা ডল,নাহার পলি, এবং আরও অনেকে
সবশেষে ফাগুন হাওয়ার কোষাধাক্য পপি খান সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্টান সমাপ্ত করলেন।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *