অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটি মিডিয়ার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মাসব্যাপী সিরিজ ওয়ার্কশপ

শুরুটা হয়েছিলো একটি ছোট্ট চিন্তা থেকে। একটি বাস্তব সমস্যাকে কিভাবেসমাধানের চেষ্টা করা যায় সেই পরিকল্পনা থেকে। তার ধারাবাহিকতায়জুলাই মাসের প্রায় পুরোটা জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ধারাবাহিকওয়ার্কশপ। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সামাজিক সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে এধরণের একটি উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়ায় বিরল একটি ঘটনা। নানা ভাষার ওসংস্কৃতির মাল্টিকালচারাল এই দেশে নানা প্রেক্ষাপটের গণমাধ্যমগুলোরসাথে জড়িত মানুষদেরকে একত্রিত করে এমন প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগ ছিলোএবারই সর্বপ্রথম। এই উদ্যোগের সূচনা এবং আয়োজনের দায়িত্ব পালনকরেছে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাভাষী কমিউ্নিটি মিডিয়াগুলোর মাঝে সবচেয়েগুরুত্বপূর্ণ এবং প্রনিধানযোগ্য স্থানে থাকা পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনি।

অস্ট্রেলিয়াতে অন্য যে কোন বিষয়ের মতোই সাংবাদিকতাও নানা ধরণেরবাস্তব ও প্রয়োজনীয় নিয়মকানুনের আওতায় পরিচালিত হয়। এসবনিয়মকানুনের মাঝে ডিফেইমেশন বা মানহানি বিষয়ক আইনকানুন বেশকড়াকড়ির সাথেই মেনে চলা হয়। বিশ্বের নানা দেশ থেকে অভিবাসীরাএসে এই দেশকে যখন তাদের নিজেদের ঘর বানিয়ে নেয়, তার পাশাপাশিতারা নিজেদের ভাষায় নানারকম গণমাধ্যমও পরিচালনা করে। কিন্তুতাদের মাঝে স্থানীয় এসব নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব দেখাযায়। ফলাফলস্বরুপ অনেক সময় কমিউনিটি মিডিয়াগুলোকে অনাকাঙ্খিতভাবে মানহানি মামলা সহ নানা আইনী ঝামেলার ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করছিলেন সুপ্রভাতসিডনির প্রধান সম্পাদক আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিতএবং অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ভাষার গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এইধরণের বিষয়গুলোর উপর প্রশিক্ষণমূলক ওয়ার্কশপ আয়োজনের প্রস্তাবনাজেনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় মাল্টিকালচারাল এনএসডব্লিউ।অবশেষে নানা পর্যালোচনা ও প্রস্তুতির পর গত ১১ জুলাই রবিবার সন্ধ্যায়অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ওয়ার্কশপটি। ধারাবাহিকভাবে একে একে ছয়টিওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়, যার শেষ পর্ব ছিলো গত ৩০ জুলাই শুক্রবারসন্ধ্যায়।

এই ওয়ার্কশপ সিরিজটিতে নিয়মিত অংশ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্নভাষার প্রধান কমিউনিটি মিডিয়ার সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া, লেবানন, তুরস্ক সহ নানাভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির সাংবাদিকরা তাদের প্রাণবন্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরমাধ্যমে এই আয়োজনকে সফল করে তুলেছে। এর পাশাপাশি সবচেয়েগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ওয়ার্কশপগুলোর বক্তা এবং সভাপতিরা।এরা সবাই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কৃতী সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবংগুরুত্বপূর্ণ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

১১ জুলাই ২০২১ তারিখ রবিবার প্রথম ওয়ার্কশপের বিষয় ছিলোঅস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বিভিন্ন কমিউনিটিকে এ দেশের মেইনস্ট্রিমগণমাধ্যম কিভাবে দেখে থাকে এবং উপস্থাপন করে থাকে? এ বিষয়কবর্তমান পরিস্থিতিতে কমিউনিটি মিডিয়াগুলো কি ভূমিকা রাখতে পারে।যিয়াদ আল দাউদের সভাপতিত্বে এবং চালর্স স্টার্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষকশিবলী আবদুল্লাহর পরিচালনায় এই ওয়ার্কশপটিতে আলোচনা উপস্থাপনকরেন ইউনিভার্সিটি টেকনলজি সিডনি ইউটিএসের মিডিয়া স্টাডিজবিভাগের সিনিয়র লেকচারার ড. কাটরিওনা বনফিলিওলি।

দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া ওয়ার্কশপটি অনুষ্ঠিত হয় ১৬ জুলাই শুক্রবারসন্ধ্যায়। অস্ট্রেলেশিয়ান মুসলিম টাইমসের ম্যানেজিং এডিটর জিয়াআহমেদের সভাপতিত্বে এবং অজবুলেটিনের এডিটর ইন চীফ ড. ফজলেরাব্বির পরিচালনায় এদিন কমিউনিটি মিডিয়ার ভবিষ্যত সম্ভাবনারক্ষেত্রগুলো আলোচনা করেন বিশিষ্ট অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক ফ্র্যান মোলয়।

১৮ জুলাই রবিবার তৃতীয় পর্বের ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন টুএমএফএমকমিউনিটি রেডিওর প্রতিনিধি রফিক হোসাইন এবং পরিচালনায় ছিলেনহানিফ বিসমি। এদিনে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কশপে অস্ট্রেলিয়ায় সাংবাদিকতারআইনী বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ব্যারিস্টার ডেভিড ব্যারেন।

ওয়ার্কশপের চতুর্থ পর্ব ছিলো ২৩ জুলাই রবিবার। টার্কিশ মিডিয়ালিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ইউকসেল সিফসির সভাপতিত্বে ও হানিফ বিসমিরপরিচালনায় এদিন সাংবাদিকতার নৈতিক অনুষঙ্গ এবং অস্ট্রেলিয়ানকমিউনিটি মিডিয়ার সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করেনওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজবিভাগের শিক্ষক ড. জান আশিক আলী।

২৫ জুলাই রবিবারের ওয়ার্কশপটিতে সভাপতি ছিলেন দ্য ট্রিবিউনেরসম্পাদক সাইয়েদ আতিকুল হাসান এবং পরিচালনায় ছিলেনঅজবুলেটিনের এডিটর ইন চীফ ড. ফজলে রাব্বী। এদিনের ওয়ার্কশপেরবিষয় ছিলো পশ্চিমা সংস্কৃতির সাংবাদিকতার ইতিহাস ও চর্চা থেকেশিক্ষণীয় ও বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য বিষয়সমূহ। এদিনের ওয়ার্কশপে আলোচকছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. জিম ট্যাগার্ট ওএএম।

ধারাবাহিক এই সিরিজ ওয়ার্কশপের সর্বশেষ পর্বটি ছিলো গত ৩০ জুনশুক্রবার সন্ধ্যায়। সুপ্রভাত সিডনির প্রধান সম্পাদক আবদুল্লাহ ইউসুফশামীমের সভাপতিত্বে এবং চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও বিশিষ্টকমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শিবলী আবদুল্লাহর পরিচালনায় এদিন মানহানিমামলা সংক্রান্ত ঘটনায় সাংবাদিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে আলোচনাকরেন ইউনিভার্সিটি টেকনলজি সিডনির দুইজন শিক্ষক ড. কাটরিওনাবনফিলিওলি এবং ড. জান্নাবী দাস।

সিডনি সহ অস্ট্রেলিয়ার নানা প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণ করা নানা ভাষার ওদেশের সাংবাদিকদের জন্য এই সিরিজ ওয়ার্কশপটি হয়ে উঠেছিলোজমজমাট এক শিক্ষণীয় আলোচনার অনুষ্ঠান। বাংলাভাষী বিভিন্নমিডিয়ার সাংবাদিকরাও এই ওয়ার্কশপগুলোতে অংশ নিয়ে সুপ্রভাতসিডনিকে সহায়তা করেছে। করোনাভাইরাসজনিত দুর্যোগময় পরিস্থিতিরমাঝেও অনলাইনে বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীদের নিয়মিত অংশনেয়ার কারণে এবং আলোচকদের তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় আলোচনারকারণে চমৎকার এই উদ্যোগটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরিস্থিতিরউত্তরণ ঘটলে সিডনিতে একটি আকর্ষনীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ারউল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে সকল অংশগ্রহণকারীদের জন্য সনদবিতরণ ও পুনর্মিলণী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই সিরিজ ওয়ার্কশপের প্রতিটি পর্বে নিয়মিত আলোচনার পর প্রাণবন্তপ্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি পর্বেই একজন সেরা প্রশ্নকারীকেনির্বাচন করা হয়েছে এবং পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রতিটি পর্বের আলোচনাএবং প্রশ্নোতর পর্বগুলো মিলে অস্ট্রেলিয়ায় কমিউনিটি মিডিয়ার সাথেজড়িত সাংবাদিকদের জন্য এই আয়োজনটি ছিলো অনবদ্য শিক্ষণীয় একঅভিজ্ঞতা। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসেও এটি ছিলো এ ধরণের সর্বপ্রথম একটিউদ্যোগ, যার আয়োজন করতে পেরে এবং সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেবাংলভাষী মিডিয়া সুপ্রভাত সিডনি গর্বিত ও আনন্দিত।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *