অভিনব আন্দোলনের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়াজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের নীরবতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে দেশটির স্কুলগামী শিশু-কিশোরেরা। গত শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।

হাজার হাজার শিক্ষার্থীর আকস্মিক রাস্তায় নেমে আন্দোলনের ফলে বিস্মিত হয়ে পড়ে জনসাধারণ। একই দিনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। চলমান এই বিশ্বময় ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম প্রকাশ করেই রাস্তায় নামে অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরেরা।

এক বছর আগে এই আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল সুইডেনে। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীজুড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের আন্দোলন। ছবি: রয়টার্সজলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের আন্দোলন। ছবি: রয়টার্সবিশ্বব্যাপী পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে অস্ট্রেলিয়ায় সংগঠিত আন্দোলনটি ছিল অন্যতম। দেশটির প্রধান গণমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশের প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী একই সময়ে আন্দোলন করে। এর মধ্যে দেশটির ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্নে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী রাস্তায় নামে। অন্যদিকে, দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনিতে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে বলে রাজ্য পুলিশ জানায়। যদিও আন্দোলনের আয়োজকেরা বলছে, আন্দোলনকারীর সংখ্যা ছিল ৮০ হাজারেরও বেশি।

এ ছাড়া কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের রাজধানী ব্রিসবেনে জমায়েত হয় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। দেশটিতে শিক্ষার্থীদের করা এটি দ্বিতীয় বৃহৎ জাতীয় আন্দোলন। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী আন্দোলনে নেমেছিল।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের আন্দোলন। ছবি: রয়টার্সজলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের আন্দোলন। ছবি: রয়টার্সসিডনিতে আন্দোলনে যোগ দিতে তিন দিন যাত্রা করে সিডনি পৌঁছায় দেশটির আদিবাসীর একজন শিক্ষার্থী মারলি থমাস। সে জানায়, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতার আভাস আমরা খুব কাছ থেকে দেখতে পাই। আমাকে এখন খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। কারণ, আমাদের গ্রামের নদীগুলো দূষিত হয়ে যাচ্ছে। খাবারের জোগান পেতেও কষ্ট করতে হয়। তাই আমার গ্রামের পক্ষ থেকে আমি আন্দোলনে যুক্ত হতে এত দূর এসেছি।’

সিডনিতে আন্দোলনরত ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভয় নিয়ে বাঁচতে চাই না। পৃথিবীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আমরা নিজেরাও কাজ করব, অন্যকেও শেখাব।’

পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে দেশটির সরকার মহল এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) গ্ল্যাডিস বেরেজিক্লিয়ানসহ আরও অনেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অবস্থান করার জন্য বলেন। তবে পরিবেশ রক্ষার এ আন্দোলন ভবিষ্যতেও জারি থাকবে বলে জোর দাবি অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রজন্মের।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *