অন কলে চলে চট্টগ্রামের হসপিটাল।

বলা হয় সেবাই ধর্ম। সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করায় মানুষের প্রথম কাজ । তাই মানুষ অসুস্থ হলে ছুটে যায় হাসপাতালে। ভালো সেবা পেতে যে কোন নামিদামি হসপিটালে ভর্তি হয় ভুক্তভোগী। অথচ একটি হসপিটালে যে ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকা উচিত তার ছিটেফোঁটাও মিলেনা ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে। রোগীদের সেবা দিচ্ছেন নার্স অথবা ইন্টার্নি করা ডাক্তার। আবার অনেক সময় দেখা যায় সদ্য পাশ করা ডাক্তার ও রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে ‌। অথচ একজন ভুক্তভোগীর জন্য যে স্পেশালিস্ট ডাক্তার প্রয়োজন, দক্ষ ডাক্তার প্রয়োজন সেই ডাক্তাররা কোন হসপিটালেই বসে না।তারা অন্যত্র চেম্বার করে। যে হসপিটালে রোগী ভর্তি হয় সে হসপিটালে রোগী দেখার জন্য তাদেরকে অন কলে আনতে হয়। সে ক্ষেত্রে দেখা যায়,একজন ডাক্তারকে আনতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত রোগীকে গুনতে হয় যা একজন রোগীর পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রাইভেট হসপিটালে দেখা যায় কোন হসপিটালে স্পেশালিস্ট ডাক্তার নেই। রোগীদের প্রয়োজনে ডাক্তারদের অন কলে আনতে হয়। রোগীকে দেখানোর জন্য স্পেশালিস্ট ডাক্তার কল করার পর দেখা যায় যে সময়টাতে ডাক্তার আসার কথা যে সময়ের ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা এমনকি একদিন পরেও ডাক্তার এসে রোগীকে দেখে,এতে অনেক সময় রোগীর মৃত্যু হয় ডাক্তার দেরীতে আসার কারনে। একজন রোগী যখন ভর্তি হয় চিকিৎসা নেয় তখন তিন হতে চারদিন সেবা দেওয়ার পর হসপিটাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয় যেখানে সার্ভিস চার্জেই বেশী ধরা হয়। আবার অনেক সময় কয়েক লাখ টাকার কাছাকাছি বিল ধরিয়ে দেয় যেখানে বিব্রত অবস্থায় পড়ে রোগীর আত্মীয় স্বজন। একটা হসপিটালে কয়েক তলা দালান, কিছু মেশিনারিজ এবং কিছু এসি সুসজ্জিত রুম দিয়ে অদক্ষ কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হয় হসপিটাল। বলা হয় উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট!! রোগীদের কে নিয়ে এমন অমানবিকতার প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম ফতেয়াবাদ থেকে আসা কাজী শওকত হায়াত নামের এক ভোক্তাভুগী বলেন- চট্টগ্রামের হসপিটালের দুরবস্থা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কি যে অবস্থা সেটা সবাই জানে। শুধু এটুকু বলতে পারি চট্টগ্রামের প্রতিটা হসপিটাল ডাকাতি করে। কোন সেবা নেই শুধু বিল দিয়ে মানুষকে নাজেহাল করে।এর থেকে পরিত্রান চাই মানুষ।

সামিউল সোহান নামের একজন বলেন- একজন গার্মেন্টস কর্মী ৫০০০ থেকে ৬০০০ টাকা বেতন পায় অথচ একটা হসপিটালে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা দিনে রুম ভাড়া নিয়ে নেয় এটা কেমন কথা? মানুষ চিকিৎসার জন্য হসপিটালে এসে সর্বত্র হারাতে হয়। সবাই আশা করেন প্রতিটা হসপিটালে স্পেশালিস্ট ডাক্তার বসবে এবং রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় সব সমস্যা গুলো এক ছাদের নিচে থেকে সেবা পাবে মানুষ। অন কলে বা অদক্ষ কর্মচারী দ্বারা হসপিটাল পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে ।চট্টগ্রামের প্রতিটি হসপিটালে যাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনা দ্বারা হসপিটাল পরিচালিত হয় এবং হসপিটাল যাতে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ থাকে সেজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অনেকেই।

চট্টগ্রাম থেকে মোঃ রবিউল হোসেন সম্রাট।
বিশেষ প্রতিনিধি।

Tags:

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *